বিগত বছরগুলিতে কেন্দ্রীয় বাজেটে বিহারের জন্য উপচে পড়া বরাদ্দ দেখেছে দেশ। লক্ষ্য ছিল বিধানসভা নির্বাচন। এবার রাজনীতির ভরকেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের নবম বাজেটে বাংলার জন্য কি কোনো ‘মেগা প্যাকেজ’ বা বিশেষ ঘোষণা থাকতে চলেছে? এই প্রশ্নই এখন রাজ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।
বিহার মডেলে কি এবার বাংলা?
বিগত কয়েক বছর ধরে দেখা গিয়েছে, নির্বাচনমুখী রাজ্যগুলির জন্য কেন্দ্রীয় বাজেটে দরাজ হস্ত থাকেন অর্থমন্ত্রী। গত বছর এবং তার আগের বছরও বিহারের জন্য ছিল ঢালাও বরাদ্দ। প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, একাধিক নতুন গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর নির্মাণ এবং মাখনা চাষিদের জন্য বিশেষ বোর্ড গঠন— বিহারের ভোটকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাজেট। এমনকি ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের পর জেডিইউ-এর সমর্থনে সরকার গড়ার পর বিহারের জন্য ১১,৫০০ কোটি টাকার কোশী খাল সংস্কার প্রকল্পের ঘোষণাও করেন নির্মলা সীতারমণ।
অমিত শাহের লক্ষ্যমাত্রা ও বাংলার প্রত্যাশা
শনিবার রাজ্যে কর্মী সম্মেলনে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ দখলই এখন বিজেপির প্রধান লক্ষ্য। শাহের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, বাংলায় এবার ৪৬ শতাংশ ভোট এবং কলকাতা সংলগ্ন ২৮টি আসনের মধ্যে ২০টি দখল করতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় বিজেপি সরকার গড়লে উন্নয়নের রূপরেখা কেমন হবে, তার একটি ‘ট্রেলার’ দেখা যেতে পারে রবিবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে।
উত্তরবঙ্গ ও বঞ্চনার অভিযোগ
বাজেট পেশের ঠিক আগের দিনই উত্তরবঙ্গ নিয়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন অমিত শাহ। তাঁর দাবি:
- রাজ্য বাজেটের ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার কোটির মধ্যে উত্তরবঙ্গ পেয়েছে মাত্র ৮৬১ কোটি টাকা।
- জনসংখ্যার বিচারে উত্তরবঙ্গের ২৫% বরাদ্দ পাওয়ার কথা থাকলেও জুটেছে মাত্র ০.২৫%। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই ‘বৈষম্য’ দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ফলে কেন্দ্রীয় বাজেটে উত্তরবঙ্গের পরিকাঠামো বা রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো ঘোষণা থাকে কি না, সেদিকে নজর রয়েছে সকলের।
সংঘাত বনাম উন্নয়ন
রাজ্য সরকার দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রাখা এবং আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলে আসছে। এই আবহে কেন্দ্রীয় বাজেটে রেল, মেট্রো প্রকল্প বা রাজ্যের শিল্পোন্নয়নে কোনো বিশেষ উপহার দিয়ে মোদী সরকার কি বাংলার সাধারণ মানুষের মন জয় করতে চাইবে? উত্তর মিলবে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায়।
অন্যান্য নির্বাচনমুখী রাজ্য
শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, এ বছর নির্বাচন রয়েছে কেরালা, তামিলনাড়ু, অসম এবং পুদুচেরিতেও। এর মধ্যে কেরালা ও তামিলনাড়ুর মতো বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির জন্যও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী কোনো বিশেষ কৌশল নেন কি না, তাও দেখার।

