নয়া দিল্লীঃ ২০২১ এ রাষ্ট্রীয় স্তরে জনগণনার পর গোটা দেশে ধাপে ধাপে অসমের মতো রাষ্ট্রীয় জনসংখ্যা রেজিস্টার (NRC) লাগু হবে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ তাঁদের আনুসাঙ্গিক সংগঠন, সরকারের প্রতিনিধি আর বিজেপি নেতাদের ম্যারাথন বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজধানী দিল্লীর ছতরপুরে হওয়া এই ম্যারাথন বৈঠকে ভবিষ্যতে নয়া জনসংখ্যা নীতি, ৩৭০ ধারা খতম করার পর পরিস্থিতি আর অযোধ্যা মামলা নিয়ে আসা সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়েও অনেক চর্চা হয়।

বৃহস্পতিবার খতম হওয়া এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির কার্যকারী সভাপতি জেপি নাড্ডা আর সংগঠনের মহাসচিব বিএল সন্তোষ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন RSS প্রধান মোহন ভাগবত, সঙ্ঘের বরিষ্ঠ নেতা ভাইয়া জি জোশি, দত্তাত্রেয় হোসবোলে এবং মোহন বৈদ্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সংগঠনের অন্যান্য পদাধিকাররাও উপস্থিত ছিলেন।

অনেক আলোচনার পর ২০২১ এ জন্মগণনা হওয়ার পর গোটা দেশে ধাপে ধাপে NRC প্রক্রিয়া লাগু করায় সহমতি মেলে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, NRC লাগু করার জন্য সর্বপ্রথম সেইসব রাজ্য গুলোকে বেছে নেওয়া হবে, যেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ইস্যুর সমস্যা সবথেকে বেশি। বৈঠকে এও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, NRC এর জন্য দেশ জুড়ে সমর্থন জোটানো হবে। সবাইকে এটা জানানো হবে যে, NRC প্রক্রিয়া দেশের সুরক্ষার জন্য কতটা আবশ্যিক। আর NRC এর সাথে কোন বিশেষ ধর্মের লেন-দেন নেই।

এই বৈঠকে সবথেকে বেশি চর্চা রাম মন্দির মামলা নিয়ে হয়। সঙ্ঘ চায় যে, হিন্দুদের পক্ষে সিদ্ধান্ত আসার পর কোথাও যেন কোন কুপ্রভাব না পড়ে। এমন কোন কথা যেন না বলা হয়, যেটা কারোর ধর্মানুভাবে আঘাত লাগে। সঙ্ঘের এক বরিষ্ঠ নেতা বলেন, এই অবসরে জন প্রকারের আক্রমণাত্বক মনোভাব যে আপন না করে নেওয়া হয়। বিশেষ করে কোনরকম জুলুস যেন না বের করা হয়। আর কোন সম্প্রদায়কে আঘাত করে যেন কোন কিছু পালন না করা হয়।
সঙ্ঘের আরেক বরিষ্ঠ নেতা বলেন, বিজেপি আর সঙ্ঘ মিলে সবরকম প্রচেষ্টা চালাবে, যাতে দেশে শান্তি বজায় থাকে। উনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ ভাবে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। মানুষ নিজের ভাবনা এবং উচ্ছ্বাস পালন করার জন্য প্রদীপ জ্বালাতে পারেন। এছাড়াও কোন ধর্মীয় স্থানে গিয়ে প্রার্থনা করতে পারেন। কিন্তু এমন কিছু করবেন না, যাতে দেশের আবহাওয়া খারাপ হবে।