নেপালে হড়পা বান নিয়ে চিনকে দুষছেন নেপালিরা, মুখ খুলল বেইজিং: মৃত বেড়ে ২৮৯

নেপালে হড়পা বান নিয়ে চিনকে দুষছেন নেপালিরা, মুখ খুলল বেইজিং: মৃত বেড়ে ২৮৯

নেপালের ভোটেকোশী নদীতে ভয়াবহ হড়পা বানের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯-এ। এই বিপর্যয় নিয়ে চিনের ভূমিকা ঘিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নেপালের একাংশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চিন আগেভাগে সতর্কবার্তা দিলে এত প্রাণহানি এড়ানো যেত। এই পরিস্থিতিতে অবশেষে মুখ খুলেছে চিন এবং পাল্টা সহযোগিতা করার বার্তা দিয়েছে।

আগেভাগে সতর্ক না করায় ক্ষোভ নেপালে

নেপালের সংবাদমাধ্যম ও বিশিষ্টজনদের একটি বড় অংশের প্রশ্ন, রাসুওয়াগাড়ি-গিরোং ক্রসিং এবং গিরোং পোর্ট যখন হড়পা বানে বিপর্যস্ত হয়েছিল, তখন সেই তথ্য কেন তড়িঘড়ি নেপালকে জানানো হলো না? চিনা পক্ষ সময়মতো খবর দিলে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো বলে তাঁরা মনে করছেন।

নেপালি সংবাদমাধ্যম ‘নয়া পত্রিকা’-র সাংবাদিক পরশুরাম কাফলে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে লিখেছিলেন, প্রতিবেশী দেশের নিরাপত্তা নিয়ে নেপাল সবসময় সচেতন থাকলেও উত্তরে অবস্থিত প্রতিবেশী দেশ তাদের বিপদে ফেলেছে। আগে থেকে সতর্ক করতে না পারার ফলেই এত প্রাণহানি ঘটেছে বলে অভিযোগ করে তাঁর প্রশ্ন, এই একতরফা সম্পর্কের মূল্য কেন কেবল নেপালকে চোকাতে হবে?

অন্যদিকে, নেপালের যোজনা কমিশনের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান গোবিন্দরাজ পোখরেল জানান, তাঁর ধারণা ছিল গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা গ্লফ পর্যবেক্ষণের জন্য সীমান্তে উন্নত উপগ্রহ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি চালায় বেজিং। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, সীমান্ত এলাকার হড়পা বানের কোনো আগাম খবর কাঠমান্ডুকে জানানো হয়নি। সেভাবে ভারী বৃষ্টি না হওয়ার কারণে নদীর নিম্ন অববাহিকার মানুষ বুঝতে পারেননি যে এমন আকস্মিক বান আসতে পারে। তবে তিনি এ-ও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এই বিপর্যয়ে চিনেরও বহু মানুষ মারা গেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সীমান্ত অঞ্চলে আবহাওয়াবিদদের নজরদারি আরও বাড়ানো উচিত বলে মত তাঁর।

চিনের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া

নেপালের বিভিন্ন মহল থেকে ওঠা অসন্তোষ ও সমালোচনার মুখে পড়ে বিবৃতি দিয়েছে নেপালে অবস্থিত চিন দূতাবাস। চিনা দূতাবাসের দাবি, চিনের দিকে থাকা বাঁধে বিপর্যয়ের ফলেই নেপালে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৬ অগস্ট নেপালের অংশেই ভূমিকম্প বা হিমবাহে ধসের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং কাদার ধস নামে। যার জেরে রাসুওয়াগাড়ি-গিরোং সীমান্ত অঞ্চলে নেপাল ও চিন—উভয় দেশের ভূখণ্ডেই বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তাই একে অপরের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ না তুলে পারস্পরিক সহযোগিতায় জোর দেওয়া উচিত, যাতে মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়।

মার্কিন সংস্থার রিপোর্টে আসল কারণের সন্ধান

ইউনাইটেড স্টেটস জিয়োলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নেপালের ভোটেকোশী নদীর এই ভয়াবহ হড়পা বানের প্রকৃত কারণ কোনো ভূমিকম্প ছিল না, বরং এটি ঘটেছিল ভয়াবহ তুষারধসের কারণে। মার্কিন এই সংস্থার প্রাথমিক বিশ্লেষণে যে ভূকম্পনকে প্রথমে ভূমিকম্প বলে মনে করা হয়েছিল, তা আদতে হিমবাহধস। হিমবাহের বিশাল বরফ ও কাদামাটির তাল নদীর অববাহিকার দিকে প্রবল বেগে নেমে আসার ফলেই এই আকস্মিক বিপর্যয় নেমে এসেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.