তৃণমূল আমলের শেষ পাঁচ বছরের জন্মশংসাপত্র যাচাইয়ের নির্দেশ শুভেন্দু সরকারের, গঠিত হচ্ছে বিশেষ তদন্তকারী দল

তৃণমূল আমলের শেষ পাঁচ বছরের জন্মশংসাপত্র যাচাইয়ের নির্দেশ শুভেন্দু সরকারের, গঠিত হচ্ছে বিশেষ তদন্তকারী দল

তৃণমূল কংগ্রেস আমলের শেষ পাঁচ বছর, অর্থাৎ ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রদান করা সমস্ত জন্মশংসাপত্র এবার কড়া নজরদারির আওতায় আনল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। অফলাইন কিংবা ডিজিটাল—উভয় পদ্ধতিতে ইস্যু করা জন্মশংসাপত্রগুলির সত্যতা ও বৈধতা যাচাইয়ের জন্য একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল।

নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম ও গরমিলের প্রমাণ মেলার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালীন বিপুল সংখ্যক জাল শংসাপত্রের তথ্য সামনে আসে। সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকার জন্য জন্মশংসাপত্র যাচাইয়ের দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়েছে বিডিও-দের ওপর এবং শহরাঞ্চলের দায়িত্ব সামলাবেন এসডিও-রা। প্রয়োজনে তাঁরা ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বা ডেপুটি কালেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিকদের নিয়ে তদন্তকারী দল গঠন করতে পারবেন।

এই যাচাই প্রক্রিয়ায় মূলত কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হবে:

  • বিলম্বিত নিবন্ধকরণ: জন্মের এক বছর পর শংসাপত্রের জন্য আবেদন করা হলে সেটিকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। কেন নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর নিবন্ধন করা হলো, তা খতিয়ে দেখবেন বিডিও বা এসডিও।
  • নথি ও এক্তিয়ার পরীক্ষা: শংসাপত্র প্রদানের সময় কী কী সহায়ক নথি জমা নেওয়া হয়েছিল, সঠিক নিয়ম মানা হয়েছিল কিনা এবং যিনি শংসাপত্র প্রদান করেছেন তাঁর উপযুক্ত এক্তিয়ার ছিল কিনা—তা পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করা হবে।
  • অনলাইন পোর্টালে তথ্য পেশ: তদন্তের বিস্তারিত রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট জন্মশংসাপত্রটি আসল, নকল নাকি ত্রুটিপূর্ণ, তা ‘জন্ম-মৃত্যু তথ্য পোর্টালে’ আপলোড করতে হবে। কোনো শংসাপত্র বেআইনি বা ভুয়ো প্রমাণিত হলে তার সুনির্দিষ্ট কারণও নথিবদ্ধ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পুরনো জন্মশংসাপত্রগুলিকে নির্ভুলভাবে ডিজিটালাইজ করার উদ্দেশ্যে চালানো এই সমগ্র প্রক্রিয়াটি আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, পুরপ্রধান বা পঞ্চায়েত প্রধানরা আর জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র দিতে পারবেন না; এই ক্ষমতা কেবল দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিকদের এক্তিয়ারভুক্ত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.