ওমান উপকূলে হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। হামলায় জাহাজটি ডুবে গেলেও এর ১৪ জন ভারতীয় কর্মীর সকলকেই সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধারকাজ
ভারতীয় যান্ত্রিক পালতোলা জাহাজটি সোমালিয়া থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। ৫৭ মিটার দীর্ঘ ও ১৪ মিটার প্রস্থের এই জাহাজটি বুধবার ওমান উপকূলের হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি পৌঁছালে অতর্কিত হামলার শিকার হয়। হামলার অভিঘাতে জাহাজটি সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যায়। ওমানের উপকূলরক্ষী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ করে জাহাজে থাকা ১৪ জন ভারতীয় নাগরিককেই উদ্ধার করে ওমানের ডিব্বা বন্দরে নিয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে এবং শীঘ্রই তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
বিদেশ মন্ত্রকের কড়া অবস্থান
বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন,
“বাণিজ্যিক জাহাজ এবং অসামরিক নাবিকদের ওপর এই ধরনের হামলা দুর্ভাগ্যজনক এবং একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। নৌপথের স্বাধীনতায় ব্যাঘাত ঘটানো এবং নিরপরাধ কর্মীদের বিপদে ফেলার এই প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার।”
ভারত এই বিষয়ে তার পূর্বতন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং দ্রুত সহায়তার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী ও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার আবহে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত দুই মাসে ১৩টি ভারতীয় জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। অতি সম্প্রতি ‘সাইমি’ (Saymee) এবং ‘এনভি সানশাইন’ (NV Sunshine) নামে দুটি এলপিজি (LPG) ট্যাঙ্কার কোনো বাধা ছাড়াই এই জলপথ পার হয়েছে।
- সাইমি: ১৯৯৬৫ টন এলপিজি নিয়ে ১৬ মে গুজরাত বন্দরে পৌঁছানোর কথা।
- এনভি সানশাইন: ৪৬৪২৭ টন এলপিজি নিয়ে ১৮ মে নিউ মেঙ্গালুরু বন্দরে পৌঁছাবে। উভয় জাহাজই ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের (IOC) পণ্য বহন করছে।
কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বর্তমানে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের ভারত সফরে রয়েছেন। তাঁর এই সফরের মাঝেই হরমুজ প্রণালীর কাছে ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও এই হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বারবার বিঘ্নিত হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ভারতের জ্বালানি সরবরাহেও। বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিন সফর এবং আমেরিকা-ইরান আলোচনার স্থবিরতার মধ্যে এই হামলা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

