‘বেআইনি আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধ আইন’ (PMLA)-এর অধীনে বৃহস্পতিবার ঋষি রাজ সিংহের বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, মুম্বই এবং দিল্লির মোট তিনটি ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। ইডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি কলকাতায় আইপ্যাক-কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে যে আধিকারিকরা হানা দিয়েছিলেন, তারাই এদিন ঋষির হায়দরাবাদের বাসভবনে তল্লাশি চালান।
একই সঙ্গে, ২০২০ সালে সিবিআই-এর দায়ের করা কয়লা চুরি মামলার আর্থিক লেনদেনের উৎস খুঁজতে মুম্বইয়ে বিজয় নায়ারের বাসস্থানেও হানা দেন ইডি আধিকারিকরা।
হাওলা যোগের চাঞ্চল্যকর দাবি
তদন্তকারী সংস্থা ইডির দাবি, পশ্চিম বর্ধমানের কুনুস্টোরিয়া ও কাজোরা এলাকায় ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL)-এর খনি থেকে কোটি কোটি টাকার কয়লা চুরির ঘটনায় এক হাওলা অপারেটরের যোগ পাওয়া গেছে। ইডির অভিযোগ:
- কয়লা পাচার থেকে প্রাপ্ত প্রায় ২০ কোটি টাকা হাওলা মারফত আইপ্যাকের ঘনিষ্ঠ সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান পিএসি কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেড’-এ পৌঁছেছে।
- যে সংস্থার মাধ্যমে এই অর্থ লেনদেন হয়েছে, তারা দিল্লির বহুল চর্চিত আবগারি দুর্নীতির টাকা পাচারেও যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে।
আদালতের দ্বারস্থ আইপ্যাক কর্ণধার
সম্প্রতি কয়লা মামলায় বয়ান নথিভুক্ত করার জন্য প্রতীক জৈনকে তলব করেছিল ইডি। তবে পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কাজের ব্যস্ততা দেখিয়ে ওই নোটিস বাতিলের আর্জি জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। ঘটনাচক্রে, সেই আইনি প্রক্রিয়ার মাঝেই বৃহস্পতিবারের এই বড়সড় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: ‘বিজেপির হতাশা’ বলছে তৃণমূল
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে ইডির এই তৎপরতাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে কড়া সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের মুখে কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে আইপ্যাক ও আপ নেতার ওপর এই চাপ সৃষ্টি রাজ্যের শাসক শিবিরের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে। যদিও ইডির দাবি, তারা কেবল তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই তাদের আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

