রামমন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চনের। এ বার পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে অযোধ্যা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি ধর্মশালা নির্মাণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নকশা জমা দিলেন অভিনেতা। তাঁর প্রয়াত বাবা তথা বিশিষ্ট কবি হরিবংশ রাই বচ্চনের নামেই প্রস্তাবিত এই ধর্মশালাটির নামকরণ করা হবে। অযোধ্যা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আধিকারিকেরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ধর্মশালার পরিকল্পনা ও নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়া
অযোধ্যা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহ-সভাপতি অনুরাগ জৈন জানান, প্রস্তাবিত এই ধর্মশালাটিতে ২০টিরও বেশি ঘর থাকার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অযোধ্যায় আসা তীর্থযাত্রী ও পুণ্যার্থীদের থাকার সুব্যবস্থা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “অযোধ্যার উন্নয়নে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট মানুষের অবদান রয়েছে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনেরও। তিনি ধর্মশালা তৈরির জন্য নকশার অনুমোদনের আবেদন জানিয়েছেন।”
কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, ধর্মশালা তৈরির এই প্রস্তাবটি ইতিমধ্যেই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের বা অন্য কারও কোনো আপত্তি থাকলে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জানানোর সুযোগ থাকে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে নিয়মমাফিক অনুমোদন দেওয়া হবে। অযোধ্যায় অমিতাভের কেনা নিজস্ব জমিতেই এই ধর্মশালাটি নির্মিত হবে। দূরদূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে থাকার ব্যবস্থা করতেই এই পরিকল্পনা।
অযোধ্যায় অমিতাভের ক্রমবর্ধমান সম্পত্তি
রামমন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অযোধ্যা অমিতাভ বচ্চনের অন্যতম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি অযোধ্যায় মোট পাঁচবার জমি কিনেছেন:
- সর্বশেষ বিনিয়োগ: রামমন্দির থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের দূরত্বে ২.৬৭ একর জমি কিনেছেন তিনি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ কোটি টাকা।
- অন্যান্য সম্পত্তি: এর আগে রামমন্দিরের অত্যন্ত কাছে ‘সরযূ’ নামের একটি আবাসনে ২৫ হাজার বর্গফুটের একটি জমি কেনেন, যেখানে তাঁর বিনিয়োগ প্রায় ১৪.৫০ কোটি টাকা।
- মন্দির উদ্বোধনের সময়: ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি রামজন্মভূমি মন্দির উদ্বোধনের ঠিক আগে ৫.৫৪ কোটি টাকা দিয়ে ৫,৩৭২ বর্গফুটের একটি জমি কিনেছিলেন তিনি। এর পাশাপাশি আরও একটি জমিতে প্রায় ৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন।
উল্লেখ্য, রামমন্দির উদ্বোধনের সময় অমিতাভ বচ্চন নিজে জানিয়েছিলেন যে অযোধ্যা সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার এক বিরাট পীঠস্থান হতে চলেছে। তবে তিনি বাকি জীবনটা অযোধ্যাতেই কাটাবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি।

