টি২০ বিশ্বকাপে মুস্তাফিজুরদের ভারতে খেলতে আসা অনিশ্চিত, ইডেনে রয়েছে তিনটি ম্যাচ, বৈঠকে বাংলাদেশের কর্তারা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর দিনেই কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ম্যাচ রয়েছে বাংলাদেশের। দুপুর ৩টে থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে খেলবে তারা। তবে আদৌ বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে আসবে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। যদিও বাংলাদেশ বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এখনও এ ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। দরকারে আইসিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। শনিবার রাতে বিসিবি-র সভা রয়েছে। সেখানেই ভারতে খেলতে আসার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী সিলেটে আমিনুল সাংবাদিকদের বলেছেন, “বিশ্বকাপ আয়োজন করছে আইসিসি। ভারত হচ্ছে আয়োজক দেশ। আমি কিছু যোগাযোগ করার দরকার হলে আইসিসি-তে করব।” মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন বলেছেন, “আইসিসি-ই ঠিক করবে কোনটা সঠিক কেন্দ্র হবে।”

বিসিবি-র দাবি, ভারতীয় বোর্ডের থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও খবর তারা এখনও পায়নি। কিন্তু এই ঘটনা বাংলাদেশের ক্রিকেটের পক্ষে লজ্জার কি না, সে প্রসঙ্গে আমজাদ বলেন, “ছোট করা হচ্ছে কি না, এই ধরনের ব্যাপারগুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা উচিত। এই ধরনের অভিজ্ঞতা আগে আমাদের ছিল না। এটাই প্রথম। ভারতের থেকেও আনুষ্ঠানিক ভাবে আমরা কিছু জানতে পারিনি। কিছু না জানা পর্যন্ত কোনও কাজ করতে পারছি না। আমাদের ক্রিকেটারদের মর্যাদা, নিরাপত্তা সব সময় প্রধান। সেটার জন্য সময়মতো সিদ্ধান্ত নেব।”

শনিবার ভারতীয় বোর্ড কেকেআরকে নির্দেশ দেয় মুস্তাফিজুরকে দল থেকে বাদ দেওয়ার। কেকেআর সেই নির্দেশ মেনেও নিয়েছে। তার পর থেকেই দু’দেশের ক্রিকেটীয় পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটমহলে ঘটনাটির নিন্দা করা হয়েছে।

বিপিএলের দল নোয়াখালি এক্সপ্রেসের কোচ তথা প্রাক্তন বোর্ডপ্রধান খালেদ মাহমুদ এ দিন সাংবাদিকদের বলেছেন, “সরকার থেকে কথা বলা যেতে পারে। বাংলাদেশ আদৌ ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপে খেলবে কি না, খেললেও ভারত কতটা দায়িত্ব নিতে পারবে এবং নিরাপত্তা দিতে পারবে সেটা জেনে নেওয়া উচিত। যদি ভারতে গিয়ে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয় তা হলে আমাদের দেশেরই ক্ষতি হবে, তাই না? বিসিবি এবং সরকার, দু’পক্ষেরই উচিত আইসিসি-কে চিঠি লেখা। আমার মনে হয়, ভারত থেকে ম্যাচগুলো কোনও নিরপেক্ষ মাঠে সরিয়ে দিলে সবচেয়ে ভাল হবে।”

মুস্তাফিজুরের বাদ পড়াকে দুঃখজনক বলে বর্ণনা করেছেন খালেদ। বলেছেন, “জানি না আসল কী। শুনছি রাজনীতিও আছে এর মধ্যে। তবে এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। বিশেষ করে মুস্তাফিজ এবং আমাদের জন্য। আমরা কেকেআরের দিকে তাকিয়েছিলাম। শাকিব (আল হাসান) কেকেআরে খেলার সময় ওদের সমর্থন করতাম। এ বারও কেকেআরকে সমর্থন করব ঠিক করে রেখেছিলাম।”

বিপিএলে মুস্তাফিজুর যে দলের হয়ে খেলছেন, সেই রংপুর রাইডার্সের সহতারী কোচ তথা প্রাক্তন বাংলাদেশ অধিনায়ক মহম্মদ আশরাফুল বলেছেন, “এমন ঘটনা ঘটেছে এটা শুনেই আমি অবাক। এ বার কেকেআর প্রচুর টাকা দিয়ে ওকে কিনেছিল। আমরা সকলে মুস্তাফিজুরকে দেখতে মুখিয়ে ছিলাম। তবে কখনওই মুস্তাফিজুর সম্মান পায়নি। এ বার কেকেআর কেনায় অনেক আশা করে বসেছিলাম আমরা।”

আর এক প্রাক্তন অধিনায়ক রাজিন সালেহ মনে করেন, এই ঘটনা শুধু মুস্তাফিজুর নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যও লজ্জার। তিনি বলেন, “মুস্তাফিজুর এত বছর ধরে আইপিএল খেলছে। নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার হিসাবে প্রমাণ করেছে। ওকে ডেকে আবার প্রত্যাখ্যান করা গোটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের পক্ষে অপমানজনক।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.