ঢাকা আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। পিসিবি (PCB) এখনও আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও, পাকিস্তান সরকারের এই অনমনীয় অবস্থানে উত্তাল বিশ্ব ক্রিকেট। তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জয় শাহের নেতৃত্বাধীন বিসিসিআই এবং আইসিসি এই বিষয়টি মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না।
চুক্তিভঙ্গ ও হাইব্রিড মডেলের ভবিষ্যৎ
পাকিস্তানের আপত্তির কথা মাথায় রেখেই আইসিসি এবারের বিশ্বকাপে ‘হাইব্রিড মডেল’ গ্রহণ করেছে, যার অধীনে পাকিস্তান তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় খেলছে। এখন শ্রীলঙ্কার মাটিতেও ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে অস্বীকার করাকে সরাসরি চুক্তিভঙ্গ হিসেবে দেখছে আইসিসি। এর ফলে ভবিষ্যতে পাকিস্তান আর কখনও নিরপেক্ষ ভেন্যু বা হাইব্রিড মডেলের দাবি জানাতে পারবে না।
পয়েন্ট টেবিল ও নেট রানরেটে প্রভাব
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী (ধারা ১৬.১০.৭), পাকিস্তান যদি ভারতের বিরুদ্ধে দল না নামায়:
- ভারত সরাসরি ২ পয়েন্ট পাবে।
- পাকিস্তানের নেট রানরেট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা তাদের সেমিফাইনালের পথ কঠিন করে তুলবে।
- বিপরীতে, ভারতের রানরেটে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
বিরাট আর্থিক লোকসানের ঝুঁকি
পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে আইসিসি প্রতি বছর পাকিস্তানকে লভ্যাংশ বাবদ প্রায় ৩১৬ কোটি টাকা দেয়। চুক্তির শর্ত ভেঙে ভারতের বিরুদ্ধে না খেললে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ কেটে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইসিসি। আর্থিক সংকটে থাকা পিসিবি-র জন্য এই ক্ষতি সামলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
নির্বাসনের কালো মেঘ
ক্রিকেটে সরকারি হস্তক্ষেপ আইসিসি-র নিয়ম অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। অতীতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কাকে নির্বাসিত হতে হয়েছিল। পাকিস্তান সরকারের সরাসরি নির্দেশিকা সামনে এলে আইসিসি পাকিস্তানকে সদস্যপদ থেকে সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদী নির্বাসিত করতে পারে। এমনকি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (ACC) এশিয়া কাপ থেকেও তাদের বহিষ্কার করতে পারে।
“সরকারের এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ক্রিকেটকে বিশ্বমঞ্চে একঘরে করে দিতে পারে। কোনো দেশই তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে আগ্রহী হবে না।” — ক্রিকেট বিশ্লেষক
সংশয়ে পিএসএল (PSL)-এর ভবিষ্যৎ
পাকিস্তান সুপার লিগের মূল আকর্ষণ বিদেশি ক্রিকেটাররা। পাকিস্তান যদি আইসিসি-র বিরাগভাজন হয়, তবে বিদেশি বোর্ডগুলো তাদের ক্রিকেটারদের পিএসএলে খেলার জন্য এনওসি (NOC) বা অনাপত্তিপত্র দেবে না। এতে টুর্নামেন্টটি জৌলুস হারিয়ে বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়বে।
এখন দেখার বিষয়, আইসিসি-র এই কড়া শাস্তির হুমকি উপেক্ষা করে পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে কি না, নাকি শেষ মুহূর্তে ক্রিকেটীয় কূটনীতিতে বরফ গলে।

