আসন্ন বিশ্বকাপের আগে দলকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে চেয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। শিশিরভেজা মাঠে রান ডিফেন্ড করার চ্যালেঞ্জ নিতে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু অধিনায়ক যা ভেবেছিলেন, তার চেয়েও অনেক বড় রেকর্ড গড়ে দেখালেন ঈশান কিশন। তাঁর বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে ভারত তুলল ২৭১ রান, যা ভারতের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর।
ঈশানের ‘ইগো’ বনাম কিউয়ি বোলার
দলে ফেরা নিয়ে নানা বিতর্কের মাঝে ঈশান কিশন বুঝিয়ে দিলেন কেন তিনি বড় মঞ্চের খেলোয়াড়। অভিষেক শর্মা (৩০) ও সঞ্জু স্যামসন (৬) দ্রুত আউট হওয়ার পর তিন নম্বরে নামেন ঈশান। কিউয়ি বোলারদের কার্যত পাড়ার স্তরে নামিয়ে এনে মাত্র ৪৩ বলে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি শতরান পূর্ণ করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি ছক্কা ও ৬টি চার।
অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও যোগ্য সঙ্গ দেন তাঁকে। সূর্যর ব্যাট থেকে আসে ৩০ বলে ৬৩ রান। তৃতীয় উইকেটের জুটিতে মাত্র ৫৭ বলে ১৩৭ রান যোগ করেন এই যুগল। শেষ দিকে হার্দিক পাণ্ড্যর ১৭ বলে ৪২ রানের ক্যামিও ভারতকে ২৭১ রানের পাহাড়ে পৌঁছে দেয়।
রান পাহাড় তাড়া ও রেকর্ডের ছড়াছড়ি
জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডও ছেড়ে কথা বলেনি। ফিন অ্যালেন ৩৮ বলে ৮০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ভারতকে চাপে ফেলেছিলেন। তবে দুই দলের সংগৃহীত মোট রান (৪৯৬) আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ম্যাচে মোট ৩৬টি ছক্কা হয়েছে, যা একটি নতুন বিশ্বরেকর্ড।
বোলারদের পরীক্ষা ও অর্শদীপের বাজিমাত
শিশিরভেজা বলে রান ডিফেন্ড করার যে পরীক্ষা সূর্যকুমার বোলারদের দিতে বলেছিলেন, তাতে সফল বাঁহাতি পেসার অর্শদীপ সিংহ। শুরুতে রান দিলেও শেষ স্পেলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। ৫১ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি কেরিয়ারে নিজের প্রথম ৫ উইকেট শিকারের নজির গড়লেন তিনি।
পাশাপাশি প্রত্যাবর্তনে সফল সহ-অধিনায়ক অক্ষর পটেলও। ৩৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে তিনি নিউজিল্যান্ডের মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন। তবে জসপ্রীত বুমরাহ (৫৮/০) ও বরুণ চক্রবর্তীর অফ-ফর্ম বিশ্বকাপের আগে কিছুটা দুশ্চিন্তা বাড়াল কোচ গৌতম গম্ভীরের।
ম্যাচের সারসংক্ষেপ:
- ভারত: ২৭১/৫ (২০ ওভার) – ঈশান ১০০, সূর্যকুমার ৬৩।
- নিউজিল্যান্ড: ২২৫/১০ (১৯.৪ ওভার) – ফিন অ্যালেন ৮০, মিচেল ২৬।
- ফলাফল: ভারত ৪৬ রানে জয়ী ও ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়।
- সেরা বোলার: অর্শদীপ সিংহ (৫/৫১)।

