৩৮ থেকে ৪৬ শতাংশে পৌঁছাতে তুরুপের তাস উত্তরবঙ্গই, বাগডোগরায় রণধ্বনি অমিত শাহের

৩৮ থেকে ৪৬ শতাংশে পৌঁছাতে তুরুপের তাস উত্তরবঙ্গই, বাগডোগরায় রণধ্বনি অমিত শাহের

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে উত্তরবঙ্গকেই প্রধান শক্তি হিসেবে দেখছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার বাগডোগরা বিমানবন্দরের অদূরে এয়ারফোর্স ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল কর্মী সম্মেলনে শাহ দাবি করেন, রাজ্যে বিজেপির ভোট প্রাপ্তি ৩৮ শতাংশ থেকে ৪৬ শতাংশে উন্নীত করার দায়িত্ব একা উত্তরবঙ্গই পালন করবে।

শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার— এই পাঁচ সাংগঠনিক জেলার কর্মীদের উপস্থিতিতে শাহ ঘোষণা করেন, উত্তরবঙ্গের প্রায় সবকটি আসনই এবার বিজেপির দখলে আসবে।

‘বাংলায় জয়ই আনবে মোদীর মুখে হাসি’

সারাদেশে বর্তমানে বিজেপি ও এনডিএ জোটের ২১টি সরকার থাকলেও, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পূর্ণ সন্তুষ্টির জন্য বাংলার জয় অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন শাহ। তিনি বলেন, “সারা দেশে ২১টি সরকার থাকার পরেও কর্মীরা বা নরেন্দ্র মোদীজি সম্পূর্ণ খুশি নন। তাঁর মুখে হাসি সেদিনই ফুটবে, যেদিন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গড়বে।”

উত্তরবঙ্গের বঞ্চনা ও ‘বাজেট কার্ড’

এদিনের সভায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে উত্তরবঙ্গকে দীর্ঘস্থায়ী বঞ্চনার অভিযোগে সরব হন শাহ। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি দাবি করেন:

  • ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রাজ্যের ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে উত্তরবঙ্গ পেয়েছে মাত্র ৮৬১ কোটি টাকা।
  • রাজ্যের মোট আয়তনের ২৪ শতাংশ উত্তরবঙ্গ হলেও বাজেটের বরাদ্দ মিলেছে মাত্র ০.২৫ শতাংশ।
  • শাহের প্রতিশ্রুতি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে জনসংখ্যা ও আয়তনের ভিত্তিতে উত্তরবঙ্গ যা প্রাপ্য, তার চেয়ে “এক টাকা হলেও বেশি” বরাদ্দ করা হবে।

নিরাপত্তা ও ‘চিকেন্‌স নেক’ প্রসঙ্গ

শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেন্‌স নেক’-এর নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দিল্লির এক সময়কার বিতর্কিত স্লোগানের রেশ টেনে তিনি বলেন, “চিকেন্‌স নেক কারো বাবার জমি নয়, এটি ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেউ এতে হাত দিতে পারবে না।” যারা এই অঞ্চল বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছিল, তাদের গ্রেফতারির প্রসঙ্গ এবং বিরোধীদের আইনি প্রচেষ্টার ব্যর্থতার কথা মনে করিয়ে দেন তিনি।

চা শ্রমিক ও থমকে থাকা উন্নয়ন

উত্তরবঙ্গের উন্নয়নমূলক কাজে রাজ্য সরকার বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শাহ। তাঁর দাবি:

  1. জমি জটিলতা: এমস (AIIMS) এবং বাগডোগরা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের কাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আটকে রেখেছে।
  2. চা শ্রমিক: অসমের ধাঁচে বাংলার চা শ্রমিকদের জমির অধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন শাহ। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার শ্রমিকদের জমির মালিকানা দেওয়ার বদলে ‘দেশলাই বাক্সের মতো ঘরে’ আটকে রাখতে চাইছে।

বিমানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে শাহ আত্মবিশ্বাসের সুরে জানান, উত্তরবঙ্গের যে এক-দুটি আসনে খামতি ছিল, এবার সেখানেও বিজেপি জয়লাভ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.