প্রাচীন শাস্ত্রে গোবরের ব্যাবহার সম্পর্কে নানা তথ্য রয়েছে। আগে যজ্ঞ করতে হলে প্রথমে গোবর স্নান করতে হতো। এখনও গ্রামের দিকে গোবরকে শুদ্ধিকরণ দ্রব্য হিসেবে ধরা হয়। তবে শহুরে লোকজন
গোবরের নাম শুনলেই নাক কুঁচকাতে শুরু করে। কারণ ভারতীয়রা গোবরের ব্যাবহার সম্পর্কে সঠিকভাবে অবগত নয় বা ভুলে গেছে বললেও চলে। জানিয়ে দি, ভারতে গোবরের তৈরি সাবান বহু সময় থেকে ব্যাবহার হয়ে আসছে। কিন্তু তা প্রায় বন্ধের মুখে হয়ে এসেছে। কারণ অভিনেতা অভিনেত্রীরা বিজ্ঞাপন দিয়ে দিয়ে বিদেশী কোম্পানির সাবানকে প্রমোট করতে ব্যাস্ত। বর্তমানে বাজারে বিক্রি হওয়া সাবান মূলত কস্টিক সোডা থেকে তৈরি হয়।

যা চামড়ার জন্য খুবই ক্ষতিকর। ভারতে এখন চর্ম রোগ বৃদ্ধির এটা একটা মুখ্য কারণ। কস্টিক সোডা (NaOH) দেহের লোমকূপ পর্যন্ত বন্ধ করে দেয় যার ফলস্বরূপ রেচন পদার্থ বের হতে পারে না।
সরকার এখন গোবরের তৈরি সাবানকে প্রমোট করতে বড়ো পদক্ষেপ নিয়েছে। MSME মন্ত্রী ও পরিবহনমন্ত্রী গোবর থেকে তৈরি সাবান ও বাঁশের তৈরি বোতল লঞ্চ করেন। বাঁশের তৈরি বোতলের বিষয়ে আগে থেকেই জেনে থাকবেন। সরকার এখন বাঁশের তৈরি বোতল ও গোবরের তৈরি সাবান লঞ্চ করে দিয়েছে।

এরফলে একদিকে যেমন মানুষের সুস্থতা বৃদ্ধি পাবে, তেমনি গ্রামীণ আর্থিক অবস্থা মজবুত হবে। একইসাথে গো-রক্ষাও বৃদ্ধি হবে। ভারতের শাস্ত্রে গোবর ও গো-মূত্র দুটিকেই পবিত্র বলে মনে করা হয়। গো-মূত্র এখন নানা ঔষধি কাজে ব্যাবহৃত হয়। এবার সরকার গোবরের ব্যাবহারের উপরেও জোর দিয়েছে। নিতিন গডকড়ী রাসায়নিক সারের মাধ্যমে চাষ করার পরিবর্তে গোবর সার দিয়ে চাষ করার জন্য জোর দিতে বলেছেন। কারণ রাসায়নিক সারের ফলে দেশে ক্যানসারের মতো রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, খাদি এবং গ্রামীণ শিল্প কমিশনের (কেভিআইসি) আগামী দুই বছরে 10,000 কোটি টাকার টার্নওভার অর্জন করা উচিত এবং বিশেষত গ্রামীণ অঞ্চলে বৃহত্তর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা উচিত। গডকরি কেআইসিআই কর্তৃক বিক্রয়কৃত পণ্য ব্র্যান্ডিংয়ের গুরুত্ব এবং গ্রাহকদের মধ্যে জৈব সামগ্রীর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দেন। এখন দেখার বিষয় হবে এই যে, দেশের জনগণ কিভাবে গ্রামীন উৎপাদনকে গুরুত্ব দিয়ে কেনাকাটি করে। কারণ দেশের GDP গ্রোথ করতে হলে দেশে উৎপাদক দ্রব্যের ব্যাবহার বৃদ্ধি করতে হবে, বিদেশী দ্রব্যের ব্যাবহার বৃদ্ধি হলে বিদেশের GDP বৃদ্ধি হবে।