কর্মজীবনের শেষ দিনটি প্রথাগত সম্মানের সঙ্গে কাটলেও মাথার ওপর ঝুলছে বিভাগীয় তদন্তের খাঁড়া। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চাঞ্চল্যকর ‘স্যালাইন-বিপর্যয়’ মামলায় অভিযুক্ত চিকিৎসক মহম্মদ আলাউদ্দিন শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন। এদিন সকালে তিনি হাসপাতালের অধ্যক্ষ মৌসুমি নন্দীর কাছে তাঁর সমস্ত প্রশাসনিক কাগজপত্র বুঝিয়ে দেন।
কী ঘটেছিল গত বছরের ৮ জানুয়ারি?
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের প্রসূতি বিভাগে ওইদিন প্রসবের পর ৫ জন প্রসূতি আচমকা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগ ওঠে, তাঁদের ‘রিঙ্গার্স ল্যাকটেট’ নামক স্যালাইন দেওয়ার পরেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। দুর্ভাগ্যবশত, এক প্রসূতির মৃত্যু হলে রাজ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।
ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে হাসপাতালের সুপার জয়ন্ত রাউত এবং প্রসূতি বিভাগের প্রধান মহম্মদ আলাউদ্দিন-সহ মোট ১৩ জন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তদন্তের জাঁতাকলে অবসর
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর এই ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। প্রসূতি বিভাগের প্রধান হিসেবে আলাউদ্দিনের ওপর দায়ভার বর্তায় এবং স্বাস্থ্য দফতরের কঠোর পদক্ষেপের মুখে পড়েন তিনি।
- কর্মকাল: দীর্ঘ ৩৪ বছর সরকারি পরিষেবা দিয়েছেন তিনি।
- সুপারের উপস্থিতি: লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, শনিবার আলাউদ্দিনের বিদায়ী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের সুপার জয়ন্ত রাউত, যিনি নিজেও ওই একই ঘটনায় সাসপেন্ড হয়েছিলেন।
অনিশ্চয়তায় অবসরকালীন সুবিধা
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, নিয়মানুযায়ী একজন সরকারি কর্মচারীর অবসরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তাঁর নথিপত্র স্বাস্থ্য ভবনে পাঠানো হবে। তবে নিয়ম অনুসারে, বিভাগীয় তদন্ত চলাকালীন বা সাসপেনশন থাকাকালীন কোনো কর্মী অবসর নিলে তাঁর গ্র্যাচুইটি বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের মতো আর্থিক সুযোগ-সুবিধা আটকে যেতে পারে। যদিও এই বিষয়ে আলাউদ্দিন নিজে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি।
মেডিক্যাল কলেজের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং স্বাস্থ্য ভবনের চূড়ান্ত নির্দেশের ওপরই নির্ভর করছে তাঁর পরবর্তী আর্থিক পাওনা।”

