আরব সাগরে আইএনএস কলকাতায় পাক জাহাজের ধাক্কা: সত্য ধাপাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে পাকিস্তান, অভিযোগ বিদেশ মন্ত্রকের

আরব সাগরে আইএনএস কলকাতায় পাক জাহাজের ধাক্কা: সত্য ধাপাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে পাকিস্তান, অভিযোগ বিদেশ মন্ত্রকের

আরব সাগরে ভারতীয় নৌসেনার যুদ্ধজাহাজ আইএনএস কলকাতা-য় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর ভেসেল পিএনএস হুনেইন-এর ধাক্কা মারার ঘটনায় জলঘোলা অব্যাহত। এই আবহে পাকিস্তানের দেওয়া জবাবে পুরোপুরি অসন্তোষ প্রকাশ করল নয়াদিল্লি। ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পাকিস্তান তাদের প্রতিক্রিয়াতে সত্যকে ধাপাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

বিদেশ মন্ত্রকের কঠোর অবস্থান

বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার উত্তর আরব সাগরে রুটিন টহলদারির সময় ভারতীয় রণতরীর সঙ্গে পাকিস্তানি ভেসেলের সংঘর্ষ হয়। ওই দিনই দিল্লিতে নিযুক্ত পাক দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিক সাদ আহমদ ওয়ারিচকে তলব করে ভারতের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘‘এই ঘটনায় আমাদের প্রতিবাদের ভিত্তিতে পাকিস্তান যে উত্তর দিয়েছে, তাতে সেই পুরনো গড়িমসি এবং সত্যকে চাপা দেওয়ার অপচেষ্টাই দেখা গিয়েছে। আমরা ঠিক এই রকমই আশা করেছিলাম। তাদের সমস্ত অভিযোগ আমরা সম্পূর্ণ খারিজ করছি।’’

নিয়মভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ

ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিদেশ মন্ত্রক জানায়, আইএনএস কলকাতা যখন আরব সাগরে নিয়মিত টহলদারিতে ব্যস্ত ছিল, তখন পিএনএস হুনেইন অত্যন্ত ‘অপেশাদার’ ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ করে। পাক ভেসেলের এই বিপজ্জনক ওভারটেকিংয়ের চেষ্টা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন:

  • চুক্তিভঙ্গ: ১৯৯১ সালের এপ্রিল মাসে স্বাক্ষরিত ‘সামরিক মহড়া, কৌশলগত অনুশীলন এবং সৈন্য চলাচলের বিষয়ে আগাম নোটিস সংক্রান্ত চুক্তি’-র ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সমুদ্রে নৌসেনার জাহাজগুলি একে অপরের ৩ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে আসার কথা নয়। পাক ভেসেল এই নিয়ম ভেঙেছে।
  • আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন: সমুদ্রে সংঘর্ষ এড়ানোর আন্তর্জাতিক নিয়মগুলিও মানেনি পাকিস্তানের ওই জাহাজটি।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবং চুক্তির শর্তাবলি মেনে চলতে তাদের বাহিনীকে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, পাক জাহাজের এই ধাক্কায় আইএনএস কলকাতার বড় কোনো ক্ষতি হয়নি এবং জাহাজটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে।

যুদ্ধজাহাজে সংঘর্ষের বিরল ঘটনা ও নেপথ্য প্রশ্ন

উল্লেখ্য, আইএনএস কলকাতা ভারতের অন্যতম শক্তিশালী ও আধুনিক যুদ্ধজাহাজ। সূত্রের খবর, এই সংঘর্ষের ফলে পাক জাহাজটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সমুদ্রে ভাসমান দুটি যুদ্ধজাহাজের মধ্যে এ ধরনের দুর্ঘটনাজনিত সংঘর্ষ অত্যন্ত বিরল, কারণ প্রতিটি যুদ্ধজাহাজেই উন্নত প্রযুক্তির রাডার ও পরিকাঠামো থাকে যার মাধ্যমে আশপাশের জাহাজের গতিবিধি সহজে ট্র্যাক করা যায়। তা সত্ত্বেও পাকিস্তানি ভেসেল কেন এমন ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করল, তার নেপথ্যে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন জোরালোভাবে উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.