আর ভারতীয় দলে ফেরার আশা নেই, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা ভুবনেশ্বর কুমারের

আর ভারতীয় দলে ফেরার আশা নেই, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা ভুবনেশ্বর কুমারের

বিশেষজ্ঞদের অনেকেই এখনও তাঁকে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে দেখার পক্ষে সওয়াল করেন। আইপিএলে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের নিয়মিত বিপাকে ফেলা এবং একের পর এক উইকেট শিকার করার সুবাদে তাঁর কদর এখনও তুঙ্গে। তবে নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সত্ত্বেও জাতীয় দলে আর কামব্যাকের কোনো স্বপ্ন দেখেন না ৩৫ বছর বয়সি এই অভিজ্ঞ পেসার।

দলে ফেরার আশা ছাড়লেন ভুবনেশ্বর কুমার

২০২২ সালের নভেম্বর মাসে সর্বশেষ ভারতের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই পেসার এক ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

তিনি বলেন, “আমার আর কাউকে কিছু প্রমাণ করার নেই। যদি কোনোদিন আবারও ভারতীয় দলে সুযোগ পাই, তবে আমার চেয়ে বেশি খুশি আর কেউ হবে না। কিন্তু এখন আর সেই আশা নেই। গত বছরও এক বা দুটি সিরিজে সুযোগ পাওয়ার আশা করেছিলাম, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আর কোনো আশাই রাখি না।”

আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (RCB) জার্সিতে তাঁর পারফরম্যান্স বরাবরই নজরকাড়া। ২০২৫ সালের আইপিএলে তিনি ১৭টি উইকেট শিকার করেন, আর তার আগের মরসুমে নিয়েছিলেন ২৮টি উইকেট, যেখানে পার্পল ক্যাপের দৌড়ে তিনি দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু দলের বিগত দুই মরসুমের আইপিএল জয়েও ভূবির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

তরুণদের দিকেই ঝোঁক নির্বাচকদের

ভুবনেশ্বর নিজেও ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পেরেছেন যে, বর্তমান টিম ম্যানেজমেন্ট প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর এবং কোচ গৌতম গম্ভীরের অধীনে পুরোপুরি তরুণদের দিকে নজর দিচ্ছে। এমনকি ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভালো পারফর্ম করা সত্ত্বেও মহম্মদ শামিও যেখানে সুযোগ পাচ্ছেন না, সেখানে নিজের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা যে অত্যন্ত ক্ষীণ, তা ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন ভুবি।

২০১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আক্ষেপ

ভারতের হয়ে দুটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে—২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। দল দুটিতেই হেরে বিদায় নিলেও, ২০১৯ সালের সেমিফাইনালের হার তাঁকে আজও সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।

সেই স্মৃতিচারণা করে ভুবনেশ্বর বলেন, “২০১৯ সালের পরাজয় আমাকে সবচেয়ে বেশি পুড়িয়েছে। আমরা তুলনামূলকভাবে সহজ লক্ষ্য তাড়া করছিলাম এবং প্রত্যেকেই ভেবেছিল আমরাই জিতব। কিন্তু বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হওয়া সব ওলটপালট করে দিল। যদি সেদিনই ম্যাচ শেষ হতো, হয়তো আমরাই জয়ী হতাম। কিন্তু রিজার্ভ ডে-তে খেলা গড়ায় এবং পরের দিনের শুরুতেই পরপর কয়েক উইকেট হারানোই আমাদের সর্বনাশ ডেকে আনে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.