বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার করিশুণ্ডা গ্রামে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র কর্মীর বাড়িতে হামলার ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে মূল এফআইআরে নাম থাকা পলাতক দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর ফলে এই ঘটনায় মোট গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম প্রশান্ত মাঝি ও অবনী মাজি। ঘটনার পর থেকেই তাঁরা পলাতক ছিলেন এবং পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি গ্রামে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ইন্দাস থানার পুলিশ মাধবডিহি গ্রামে হানা দিয়ে দু’জনকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার ধৃতদের বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ অগস্ট। করিশুণ্ডা গ্রামের পশ্চিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে উদ্যোগী হয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা তথা সিজেপি কর্মী আব্দুল হাফিজ। অভিযোগ, সেই কারণেই ওই দিন রাতে একদল দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। দুষ্কৃতীদের হাত থেকে রক্ষা পাননি আব্দুলের বাবা মহম্মদ মাফিকও; তাঁকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হলে ১৫ অগস্ট রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাফিকের মৃত্যু হয়।
মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে ১৭ অগস্ট ৮ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বুধবার রাতে আশিস মাঝি নামে আরও এক অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মাধবডিহি থেকে ধরা পড়লেন আরও দুই অভিযুক্ত।
এদিকে, শুক্রবার মৃতের ছেলে আব্দুল হাফিজকে সঙ্গে নিয়ে বাঁকুড়ার জেলাশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিজেপি নেতৃত্ব। দলীয় নেতা প্রেম আকাশ অভিযোগ করেন, তদন্তের গতি কিছুটা ধীর। ইতিমধ্যেই আব্দুলের পরিবারের সুরক্ষায় পুলিশ মোতায়েন ও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সিজেপি-র দাবি, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাঁদের দাবি পূরণ না হলে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে বাঁকুড়া জেলাশাসকের দফতর ঘেরাও করা হবে। অন্যদিকে, বাঁকুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃশানু রায় জানান, ঘটনার নিখুঁত তদন্ত চলছে এবং ফরেনসিক দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে।

