অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে নিজেদের শক্ত অবস্থান স্পষ্ট করল বাংলাদেশ। তানজিদ হাসানের দুর্দান্ত প্রথম টেস্ট শতরানের ওপর ভর করে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৫১ রান। ফলে প্রথম ইনিংসে ইতিমধ্যেই ১৫৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড তুলে নিয়েছে তারা। তবে দ্বিতীয় দিনের খেলায় ব্যাটে-বলের লড়াইয়ের পাশাপাশি উত্তাপ ছড়ায় মিচেল স্টার্ক ও মেহেদি হাসান মিরাজের মাঠের ভিতরের বাগ্যুদ্ধ।
পিচের ‘সুরক্ষিত অঞ্চল’ নিয়ে মাঠেই বচসা
ঘটনাটি ঘটে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ১০৩তম ওভারে। অস্ট্রেলীয় পেসার মিচেল স্টার্কের বল পয়েন্টের দিকে ঠেলে দিয়ে এক রান নেওয়ার উদ্দেশ্যে দৌড় শুরু করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। দৌড়ানোর সময় তিনি পিচের নিষিদ্ধ বা সুরক্ষিত এলাকায় (Protected Area) চলে আসেন, যেখানে ব্যাটারদের পদচারণা নিয়মবিরুদ্ধ।
দৌড়ানোর পথে স্টার্কের সাথে মেহেদির ধাক্কা লাগতে লাগতে বেঁচে যায়। সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অজি ক্রিকেটারেরা। স্টার্ক ক্ষুব্ধ হয়ে মেহেদিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ওটা আমার এলাকা। ওখানে আমি যেতে পারি, তুমি যেতে পারো না। পিচের বাইরে থাকো।” মেহেদি নিজের ভুল স্বীকার করে তৎক্ষণাৎ ক্ষমা চান এবং জানান যে দৌড়ানোর সময় স্টার্ক সামনে চলে আসায় তিনি খেয়াল করতে পারেননি। তবে ক্ষমা চাওয়ার পরেও স্টার্ককে শান্ত হতে দেখা যায়নি। অবশেষে অন-ফিল্ড আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তানজিদের দায়িত্বশীল শতরান ও বড় লিড
এর আগে প্রথম দিনের শেষে ১ উইকেটে ৯৬ রান তোলা বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিনে বেশ শক্ত ভিত তৈরি করে। ২৪ বছর বয়সি তানজিদ হাসান অত্যন্ত ধীরস্থির ও সতর্কতার সাথে নিজের প্রথম টেস্ট শতরানটি তুলে নেন। স্পিনার নেথান লায়নকে খুচরো রান নিয়ে ১৮৮ বলে তিন অঙ্কের কোঠায় পৌঁছান তিনি। একটিও বাজে শট না খেলে গড়া এই ইনিংসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ উপহার দেন তানজিদ:
- দ্বিতীয় উইকেটে: মোমিনুল হকের (৪৯) সাথে ১০২ রানের জুটি।
- তৃতীয় উইকেটে: অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর (৮৪) সাথে ৯৩ রানের জুটি।
তানজিদ ১০০ রানে (১০১ রানে আউট) এবং শান্ত ৮৪ রানে সাজঘরে ফেরার পর দিনের তৃতীয় সেশনে পর পর ৩টি উইকেট হারিয়ে সামান্য চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে সপ্তম উইকেটে মেহেদি হাসান মিরাজ এবং হাসান মাহমুদ অপরাজিত ৪৩ রানের জুটি গড়ে দিনের খেলা শেষ করেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে করা ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

