আশঙ্কাই সত্যি হলো। আগামী ৩ অক্টোবর ব্রাজিলের বিরুদ্ধে প্রদর্শনী ম্যাচের সূচির কারণে ফিফা আশিয়ান কাপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম তুলে নিল সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)। একই সময়ে দুটি ভিন্ন প্রতিযোগিতায় দল নামানো বাস্তবসম্মত নয় বলেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ফেডারেশন সূত্রে জানানো হয়েছে।
সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করল ফেডারেশন
বৃহস্পতিবার সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল এম সত্যনারায়ণ সংবাদ সংস্থাকে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “আমরা আশিয়ান কাপ থেকে নাম তুলে নিয়েছি। একই সঙ্গে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচ এবং আশিয়ান কাপে অংশগ্রহণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”
পূর্বে আশিয়ান কাপে একটি দ্বিতীয় সারির দল পাঠানোর পরিকল্পনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই টুর্নামেন্টে ভারতের গ্রুপে ছিল ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর। ফিফা আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় আশিয়ান-বহির্ভূত দেশ হিসেবে ভারতের খেলার সুযোগ হলেও, এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ফলে এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলির বিরুদ্ধে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার বড় সুযোগ হাতছাড়া করল ভারতীয় দল।
সাবেক অধিনায়কের ক্ষোভ ও তীব্র বিরোধিতা
ফিফার এই আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ফুটবলমহলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ফেডারেশনের কর্মসমিতির বৈঠকে শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন ভারতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া।
আশিয়ান কাপের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাইচুং আগেই জানিয়েছিলেন, “কর্মসমিতির সভায় আমি আশিয়ান কাপে খেলার বিষয়ে জোর দিয়েছিলাম। সাফ প্রতিযোগিতার চেয়ে এটি অনেক উন্নতমানের টুর্নামেন্ট। এখানে খেলার জন্য আর্থিক অনুদান এবং ভালো পারফরম্যান্সের জন্য আকর্ষক পুরস্কারমূল্য রয়েছে। সবথেকে বড় কথা, দলের দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির জন্য মাত্র একটি প্রদর্শনী ম্যাচের চেয়ে তিন-চারটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
ব্রাজিলের বিরুদ্ধে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আলাদা হলেও, ভুল সময়ে মাত্র একটি ম্যাচকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে পুরো টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানো কতটা যুক্তিযুক্ত—তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনে।

