২০২৬ সালের ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট-ইউজি/NEET-UG)-র প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)-এর পেশ করা চার্জশিট গ্রহণ করল দিল্লির ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক অজয় গুপ্ত পর্যবেক্ষণ শেষে জানান, চার্জশিটে নাম থাকা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করার মতো বিপুল উপাদান ও পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। সিবিআই-এর চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত ১৩ জন ব্যক্তি একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট গড়ে নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস ও তা হস্তান্তরের কাজ করেছিল বলে মন্তব্য করেন বিচারক।
সুসংগঠিত সিন্ডিকেট ও ৩ মে-র ঘটনা
আদালত জানিয়েছে, সিবিআই সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত তদন্তের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। সিবিআই-এর পেশ করা নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট যে, অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই ২০২৬ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষার পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান—এই তিনটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত ছিলেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের অন্যতম মূলচক্রী পিভি কুলকর্ণী জানতেন যে নির্দিষ্ট স্থানে বিষয় বিশেষজ্ঞদের (Subject Experts) তল্লাশি করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা ছিল না। সেই সুযোগ নিয়ে রসায়নের প্রশ্নপত্র অনুবাদের কাজ করার সময় গোপনে তৈরি করা নোটস বাইরে পাচার করেন তিনি।
বিশ্বাসভঙ্গ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অপরাধ
বিচারক অজয় গুপ্ত জানান, প্রশ্নপত্র অনুবাদের কাজে নিযুক্ত তিন বিষয় বিশেষজ্ঞ—
- রসায়ন: পিভি কুলকর্ণী
- পদার্থবিদ্যা: মনীষা সঞ্জয় হাভালদার
- জীববিজ্ঞান: মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে
পরীক্ষার আয়োজক সংস্থা ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ (NTA)-র কাছে লিখিত অঙ্গীকার করেছিলেন যে, পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো তথ্য তাঁরা বাইরে কারও সঙ্গে আদানপ্রদান করবেন না। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, তাঁরা সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন। পাশাপাশি, সরকারি কর্মী হিসেবে দুর্নীতি প্রতিরোধ (PC) আইনের ১৩ নম্বর ধারায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্যও তাঁদের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে।
অভিযুক্ত বিষয় বিশেষজ্ঞেরা অবৈধ আর্থিক উপার্জনের উদ্দেশ্যে অন্যান্য সহ-অভিযুক্তদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র একাধিক পরীক্ষার্থীর কাছে কোচিং করানোর নামে বিক্রি করেছিলেন বলে আদালতে সিবিআই দাবি করেছে।
পুনঃপরীক্ষা ও তদন্তের পরিসংখ্যান
উল্লেখ্য, ৩ মে-র পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর ২১ জুন নতুন করে পরীক্ষা গ্রহণ করা হলেও দেশজুড়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়তে হয়। তদন্তে নেমে সিবিআই এই মামলায় মোট ৩৬০ জন সাক্ষীর বয়ান নথিভুক্ত করেছে। এ ছাড়া ৪২২টি নথি, ৪৩টি পারিপার্শ্বিক প্রমাণ এবং বাজেয়াপ্ত হওয়া বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ চার্জশিটের সঙ্গে আদালতে পেশ করেছে তদন্তকারী সংস্থা।

