সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে নিয়োগ অসম্ভব, মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন জানাচ্ছে এসএসসি

সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে নিয়োগ অসম্ভব, মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন জানাচ্ছে এসএসসি

সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিল রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। ফলে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই পুনরায় শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছে কমিশন। সূত্রের খবর, এ বার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে আদালতের কাছে ‘অনেকটা বাড়তি সময়’ চেয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি নথিও প্রস্তুত করা হয়েছে।

নিয়োগের জটিলতা ও আইনি প্রেক্ষাপট

২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি জটিলতা চলছে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ২০১৬ সালের সমগ্র প্যানেলটি বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে চাকরি হারান প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। তবে তৎকালীন নির্দেশে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয় যে, ‘যোগ্য’ প্রার্থীরা প্রাথমিক ভাবে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সবেতন কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন এবং এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজ্যকে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

পরবর্তীকালে এসএসসির আবেদনের ভিত্তিতে আদালত সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ অগস্ট পর্যন্ত কার্যকর করে। তবে সম্প্রতি ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ সংক্রান্ত নতুন আইনি জট তৈরি হওয়ায় পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে।

থমকে গেছে কাউন্সেলিং ও নিয়োগপত্র প্রদান

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এসএসসি নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করে। একাদশ-দ্বাদশ স্তরের ৩৩টি বিষয়ের মধ্যে ২১টি বিষয়ের কাউন্সেলিং সম্পন্ন হলেও এখনও কাউকে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। এমনকি গত বুধবার ৩৬৫ জন প্রার্থীর নির্ধারিত নথি যাচাইকরণের কাজ স্থগিত রাখা হয়। পাশাপাশি, অবশিষ্ট ১২টি বিষয়ের জন্য ১৪ অগস্ট থেকে যে কাউন্সেলিং শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেটিও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

এমতাবস্থায় আগামী ৩১ অগস্টের মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া শেষ করা অসম্ভব বলেই মনে করছে শিক্ষা দপ্তর। ইতিপূর্বে রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন এবং এসএসসি চেয়ারম্যান দুষ্মন্ত নারিয়ালা বাড়তি সময় চাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যা বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত রূপ নিল।

শিক্ষক সংগঠন ও চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া

নিয়োগের মেয়াদ বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তে শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে:

  • যোগ্য শিক্ষকদের একাংশের স্বস্তি: ২০১৬ সালের বাতিল প্যানেলের যে সকল ‘যোগ্য’ শিক্ষক নতুন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি, ৩১ অগস্টের পর তাঁদের চাকরি হারানোর কথা ছিল। সময়সীমা বাড়লে তাঁরা আপাতত কিছু দিনের জন্য স্বস্তি পাবেন।
  • নতুন পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ: ২০২৫ সালে প্রথম বার পরীক্ষা দিয়ে সফল হওয়া প্রার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। কাউন্সেলিং ও সুপারিশপত্র পাওয়া সত্ত্বেও চূড়ান্ত নিয়োগ থমকে যাওয়ায় তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
  • শিক্ষক সংগঠনের বক্তব্য: বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানান, court এই আবেদন মঞ্জুর করলে রাজ্য সরকার সতর্কতার সঙ্গে প্রক্রিয়াটি শেষ করার সুযোগ পাবে, তবে নতুন পরীক্ষার্থীদের বয়সের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

অন্যদিকে, ‘যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’-এর প্রতিনিধি মেহবুব মণ্ডল ওবিসি জটের কারণে ২০১৬ সালের আসল যোগ্য শিক্ষকেরা বাদ পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এখন দেখার, এসএসসির এই সময়সীমা বাড়ানোর আর্জিতে শীর্ষ আদালত কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.