ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতাল থেকে এক মহিলার মরদেহ বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলো পুরসভার ময়লা তোলার কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টর-ট্রলিতে করে। মধ্যপ্রদেশের ছতরপুর জেলার বড় মলহেরা সিভিল হাসপাতালের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র রাজ্য জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিয়েছে যে, তাদের কাছে কোনো নিজস্ব শববাহী গাড়ি না থাকায় নিয়মিত স্থানীয় পুরসভার যানবাহনের ওপরই নির্ভর করতে হয়।
আবর্জনার স্তূপ থেকে উদ্ধার ও অমানবিক পরিণতি পুলিশ সূত্রের খবর, প্রায় এক মাস ধরে নিখোঁজ থাকা রুকসানা খান নামে এক মহিলার পচাগলা দেহ গত বুধবার স্থানীয় এক আবর্জনার স্তূপ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ছতরপুরের বড় মলহেরা সিভিল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিতর্কের সূচনা হয় ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর। মৃতের স্বামী বাবলেশ আহিরওয়ার জানান, স্ত্রীর দেহ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁরা দীর্ঘক্ষণ হাসপাতালের সামনে শববাহী গাড়ির অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্থানীয় পুরসভার ময়লা ফেলার কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টর-ট্রলি তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আবেগে আপ্লুত হয়ে মৃতের স্বামী বলেন, “জীবদ্দশায় না পেলেও অন্তত মৃত্যুর পর প্রতিটি মানুষের ন্যূনতম সম্মান পাওয়া উচিত। ময়লা তোলার গাড়িতে করে স্ত্রীর মরদেহ বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে হয়েছে—একজন স্বামীর জন্য এই দৃশ্য দেখা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের স্বীকারোক্তি ঘটনা প্রসঙ্গে বড় মলহেরা সিভিল হাসপাতালের ব্লক মেডিক্যাল অফিসার (BMO) ডা. হেমন্ত মারাইয়া জানান যে, হাসপাতালে কোনো শববাহী গাড়ি না থাকার বিষয়টি সত্যি।
তিনি বলেন, “আমাদের নিজস্ব কোনো শববাহী যানবাহন নেই। তাই এই ধরনের প্রয়োজনে আমাদের নগর পরিষদের (পুরসভা) ওপরই নির্ভর করতে হয়। জেলাস্তরের একাধিক বৈঠকে শববাহী গাড়ির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হলেও এখনও পর্যন্ত তার অনুমোদন মেলেনি। আশা করছি দ্রুতই একটি গাড়ি পাওয়া যাবে।”
প্রশাসনের পদক্ষেপ আবর্জনা ফেলার ট্রলিতে মরদেহ পরিবহনের এই অমানবিক ছবি জানাজানি হতেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ছতরপুর জেলা প্রশাসন। প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, ঠিক কী পরিস্থিতিতে ঘটনাটি ঘটেছে এবং কোথায় গাফিলতি ছিল, তদন্ত রিপোর্ট হাতে আসার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

