আইপিএলে চোট গোপন করার মাশুল! ক্রিকেটারদের ধারাবাহিক চোটের দায় নিয়ে বোর্ডের উৎকর্ষ কেন্দ্রে জোর বিতর্ক

আইপিএলে চোট গোপন করার মাশুল! ক্রিকেটারদের ধারাবাহিক চোটের দায় নিয়ে বোর্ডের উৎকর্ষ কেন্দ্রে জোর বিতর্ক

সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ভারতীয় ক্রিকেটারের ঘন ঘন চোট পাওয়া নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) জাতীয় উৎকর্ষ কেন্দ্র (সেন্টার অব এক্সেলেন্স) এবং তার পরিচালন ব্যবস্থার ওপর তৈরি হয়েছে তীব্র চাপ। কেন্দ্রের প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণ চোট ব্যবস্থাপনার পক্ষে সাফাই দিলেও, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উৎকর্ষ কেন্দ্রেরই এক কর্মকর্তা ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁর মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএল চলাকালীন দলীয় চাপ ও আর্থিক সুবিধার কারণে খেলোয়াড়েরা চোট গোপন করে খেলেছেন, যার চরম মাশুল এখন গুনতে হচ্ছে জাতীয় দলকে।

উৎকর্ষ কেন্দ্রে চোটগ্রস্ত তারকাদের ভীড় বর্তমানে জাতীয় দলের একাধিক তারকা ক্রিকেটার চোটের কারণে উৎকর্ষ কেন্দ্রে পুনর্বাসনে (রিহ্যাব) রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম জসপ্রীত বুমরাহ, হর্ষিত রানা, বরুণ চক্রবর্তী এবং সাই সুদর্শন। এই সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে রবিবার স্বয়ং বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ শইকীয়া উৎকর্ষ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন।

কর্তার বিস্ফোরক মন্তব্য ও চোটের আসল কারণ বৈঠকের পরপরই উৎকর্ষ কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “বর্তমানে অতিরিক্ত ক্রিকেট খেলার কারণে মানবশরীরের স্বাভাবিক সক্ষমতার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বেশি চাপ পড়লে চোট মেটানো সহজ নয়, বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে এটি আরও জটিল।”

তিনি আরও যোগ করেন, “দলীয় চাপ ও বিপুল আর্থিক সুবিধার সমীকরণে অনেক ক্রিকেটারই আইপিএল চলাকালীন ছোটখাটো চোট গোপন রেখে খেলা চালিয়ে গিয়েছেন। এর পর চোটের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে তাঁরা সুস্থ হওয়ার জন্য উৎকর্ষ কেন্দ্রে ছুটে আসছেন।”

একই সঙ্গে চিকিৎস কর্মীদের সমর্থনে তিনি জানান, কেন্দ্রের ফিজিও ও চিকিৎসকেরা অত্যন্ত পারদর্শী এবং তাড়াহুড়ো না করে সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে চিকিৎসা চলছে বলেই নির্বাচক, কোচ ও অধিনায়কদের খেলোয়াড় নির্বাচনে বিলম্বের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

ভিভিএস লক্ষ্মণের সাফাই অন্য দিকে, উৎকর্ষ কেন্দ্র কেবল মাত্র একটি রিহ্যাব সেন্টার নয় উল্লেখ করে প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণ বলেন, “এটি শুধুই চোট সারানোর জায়গা নয়, পাশাপাশি ক্রিকেটারদের সার্বিক দক্ষতা ও পারফরম্যান্স বৃদ্ধির দিকেও এখানে নজর দেওয়া হয়। সুতরাং, ভারতীয় ক্রিকেটে এই কেন্দ্রের ভূমিকা অনেক ব্যাপক।”

চোট পাওয়া নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে লক্ষ্মণ জানান, “চোট খেলারই একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। দুর্ঘটনা বা চোটের ওপর কারও সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তাই কেন্দ্রের ওপর সমস্ত দোষ চাপিয়ে বা আমাদের ‘বলির পাঁঠা’ বানিয়ে কোনো লাভ নেই। আমরা আমাদের সাধ্যমতো সেরা পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছি।”

সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক সিরিজের আগে তারকা ক্রিকেটারদের এই পর পর চোট এবং বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের দ্বিমুখী বক্তব্যে ভারতীয় ক্রিকেট মহলে এখন চোট ব্যবস্থাপনা নিয়ে জোর জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.