রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ২০০৮ থেকে ২০১৫ সময়কালের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) প্রথম কিস্তি পরিশোধের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট গঠিত মনিটরিং কমিটি। আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যে সমস্ত কর্মীর ‘ই-সার্ভিস বুক’ (e-Service Book) ইতিমধ্যে স্ক্যান করে আপলোড করা হয়েছে, তাঁদের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তির টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬৪,৭৫৯ জন সরকারি কর্মচারীর ই-সার্ভিস বুক স্ক্যানিং ও আপলোডের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কমিটির নির্দেশ অনুসারে, এই সকল কর্মী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই তাঁদের বকেয়া অর্থের প্রথম কিস্তি পাবেন।
বকেয়ার পরিমাণ ও মনিটরিং কমিটির ভূমিকা ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ বাবদ রাজ্য সরকারের মোট পরিশোধযোগ্য অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১,৯৮৩ কোটি টাকা। বিপুল অঙ্কের এই আর্থিক দায় মেটানোর প্রক্রিয়া পর্যালোচনা ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রের নেতৃত্বে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়। রাজ্য সরকারের ওপর যাতে একলপ্তে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে, সেই দিকটি বিবেচনা করে কিস্তিতে টাকা পরিশোধের কৌশল নির্ধারণের দায়িত্ব রয়েছে এই কমিটির ওপর।
কমিটি নিয়মিত রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে অনুষ্ঠিত শুনানিতে কমিটি তাদের সুপারিশ ও বৈঠকের বিশদ বিবরণ রিপোর্ট আকারে জমা দিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশক্রমে এই রিপোর্টের কপি মামলার সঙ্গে যুক্ত সকল পক্ষকে প্রদান করা হয়েছে।
ই-সার্ভিস বুক আপডেট ও প্রক্রিয়াগত বিলম্ব মনিটরিং কমিটিকে রাজ্যের পক্ষে জানানো হয়েছে যে, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের পুরানো কর্মীদের সুনির্দিষ্ট হিসাব বের করার জন্য ই-সার্ভিস বুক আপডেট করা জরুরি হয়ে পড়েছে। পুরানো কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত তথ্য সম্পূর্ণ না থাকায় এই প্রক্রিয়ায় কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগছে।
রাজ্য সরকার জানায়, ৬৪,৭৫৯ জনের ই-সার্ভিস বুক সফলভাবে আপডেট করা সম্ভব হয়েছে এবং আরও ১,৩৩,৯৯১ জন কর্মচারীর সার্ভিস বুক আপডেশনের কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই মনিটরিং কমিটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, প্রক্রিয়ার জন্য পুরো কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে যাদের তথ্য প্রস্তুত রয়েছে, তাঁদের বকেয়া মেটানোর কাজ অবিলম্বে শুরু করতে হবে।
আইনজীবী প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ মনিটরিং কমিটির এই রিপোর্ট ও নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে মামলাকারী সরকারি কর্মীদের একাংশের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানান, “সুপ্রিম কোর্ট আগেই বকেয়া মেটানোর নির্দেশিকা ও সময়সীমা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। আমরা চাই কোনো রকম দীর্ঘসূত্রতা না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্ত সরকারি কর্মচারীর প্রাপ্য অর্থ মিটিয়ে দেওয়া হোক।”
সর্বোচ্চ আদালত গঠিত কমিটির এই সময়সীমা নির্ধারণের ফলে দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার দাবিতে আন্দোলনরত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে আশার আলো দেখা দিয়েছে। এখন দেখার, নির্ধারিত ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্য সরকার কীভাবে প্রথম ধাপের অর্থ বিতরণের কাজ সম্পন্ন করে।

