পুনরায় ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বক্তব্য পেশ করতে চলেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী বুধবার ‘দ্য ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া’-র একটি কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য পেশ করবেন বলে জানা গেছে। এর আগে গত জানুয়ারি মাসে এই ক্লাবেই তাঁর একটি অডিও বার্তা শোনানো হয়েছিল, যা নিয়ে তত্কালীন অন্তর্বর্তী সরকার তীব্র বিরোধিতা প্রকাশ করেছিল।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন ছয় মাস আগের পরিস্থিতির তুলনায় এবারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনেকটাই ভিন্ন। বাংলাদেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের অবসান ঘটেছে এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় এসেছে। তবে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম এখনও নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক শেখ হাসিনাকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজাও বলবৎ রয়েছে। এই আবহে সম্প্রতি ভারতের বিদেশ বিষয়ক সংসদীয় কমিটি জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা এই সমস্ত আইনি ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের দেশে ফিরতে চান আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশে ফিরতে আগ্রহী। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা সম্পর্কে তিনি অবগত। তবুও দেশের বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে প্রস্তুত। দেশে ফেরার পর গ্রেফতার হওয়া, কারাবাস কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে জেনেও তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অবিচল।
বুধবারের কর্মসূচি ও উপস্থিত ব্যক্তিত্ব ‘দ্য ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া’-র পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটেই আগামী বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন শেখ হাসিনা। উক্ত ভার্চুয়াল কর্মসূচিতে তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, বাংলাদেশের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শাকিব আল হাসান এবং প্রাক্তন মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত থাকবেন। তবে এটি সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্ব সংবলিত প্রথাগত সংবাদ সম্মেলন হবে, নাকি একটি পূর্ব-রেকর্ডকৃত ভার্চুয়াল বক্তব্য পেশ করা হবে, সে বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
পূর্ববর্তী বিতর্ক ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রথমবার দিল্লিতে এই ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবেই তাঁর একটি এক ঘণ্টার অডিও বার্তা সম্প্রচার করা হয়েছিল, যেখানে তিনি তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের তীব্র সমালোচনা করেন। ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনাকে এই ধরনের বার্তা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের পর পুনরায় দিল্লির একই মঞ্চ থেকে আগামী বুধবার শেখ হাসিনা কী বার্তা দেন, সেদিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।

