ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL) থেকে আচমকা জামশেদপুর এফসি-র (Jamshedpur FC) দল তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে বাকরুদ্ধ দেশের ফুটবল মহল। টাটা গোষ্ঠীর চালিত এই ক্লাবের আকস্মিক ঘোষণাকে ‘পেটে সপাটে ঘুষি’ হজম করার সঙ্গে তুলনা করেছেন ভারতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী। ভারতীয় ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থে টাটা গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃত্বকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন পোস্ট সুনীলের জামশেদপুর এফসি-র ফুটবল বন্ধের ঘোষণার পর সমাজমাধ্যমে এক বিবৃতিতে সুনীল ছেত্রী লেখেন, “জামশেদপুর এফসি-র দল তুলে নেওয়ার খবরটি আমাদের কাছে পেটে সপাটে ঘুষি খাওয়ার মতোই একটা ধাক্কা। ফুটবলার এবং সাপোর্ট স্টাফেরা রাতারাতি গৃহহীন হয়ে পড়লেন। হয়তো তাঁরা অন্য ক্লাব পেয়ে যাবেন, লিগও নিজের নিয়মে এগিয়ে যাবে। কিন্তু ভারতীয় ফুটবলের শীর্ষস্তরে টাটা গোষ্ঠীর কোনো ক্লাব থাকবে না—এটি এমন এক অপূরণীয় ক্ষতি যার কোনো বিকল্প নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে সাহসের প্রয়োজন হয়, বিশেষ করে গত কয়েক বছরের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে। ঘর ভাঙার মুখে দাঁড়িয়ে সবাই প্রবীণদের আশ্রয়ের দিকে তাকায়। টাটা গোষ্ঠী, টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমি (TFA) এবং জামশেদপুর এফসি আমাদের কাছে ঠিক তেমনই এক নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ ছিল।”
টাটা কর্তাদের উদ্দেশ্য করে সুনীল লেখেন, “খেলাধুলোয় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয় জানি। তবে আমি অনুরোধ করব, টাটা গোষ্ঠীর কর্তারা যেন মাথার বদলে হৃদয়ের কথা শেনেন এবং এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পুনরায় ভাবেন। এটি হয়তো ব্যবসায়িক দিক থেকে কঠিন হতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে ভারতীয় ফুটবলের জন্য তাঁদের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।”
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গত ৩১ জুলাই জামশেদপুর এফসি কর্তৃপক্ষের বোর্ড অফ ডিরেক্টরস এক বিবৃতিতে জানায় যে তারা আসন্ন আইএসএল মরসুমে কোনো প্রথম দল নামাবে না। ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা এই ক্লাবটি ২০২১-২২ মরসুমে লিগ-শিল্ড জয় করে সাফল্য অর্জন করেছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) এবং আইএসএল ক্লাবগুলির মধ্যে সম্প্রচার ও লিগ চালানোর স্বত্ব নিয়ে দরকষাকষির আবহে বহু দিন ধরেই দল না নামানোর চিন্তাভাবনা করছিলেন জামশেদপুরের শীর্ষ কর্তারা।
তবে জামশেদপুর এফসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, পেশাদার প্রথম দল তুলে নেওয়া হলেও ফুটবলের উন্নয়নে তাদের কাজ অব্যাহত থাকবে। আগের মতোই তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিভা অন্বেষণ ও ফুটবলার তুলে আনার কাজ চালাবে তারা। পাশাপাশি, যেসব ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফের সঙ্গে এখনও চুক্তি বলবৎ রয়েছে, তাঁদের পুরো বেতন মিটিয়ে দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

