চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে দেশে ফিরলে তাঁর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করে দিলেন বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মহম্মদ আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বাংলাদেশে পা রাখা মাত্রই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হবে; এমনকি তাঁর আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করারও কোনো সুযোগ মিলবে না।
২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করে দেয়। এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে।
সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও এএফপি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানান, দেশে ফিরলে তাঁর পরিণতি কী হতে পারে সে বিষয়ে তিনি অবগত। তা সত্ত্বেও নিজের অনুপস্থিতিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর চলা অত্যাচার ও তাঁদের আহ্বানের সাড়া দিতে তিনি মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি নিয়েই চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সঙ্গে ফিরতে চান দেশত্যাগী অন্যান্য নেতা-মন্ত্রীদের নিয়েও। আদালতের রায়ের সমালোচনা করে তিনি একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিহিত করলেও দেশের বিচারব্যবস্থার ওপর তাঁর আস্থা রয়েছে বলে দাবি করেছেন।
বিনা পাসপোর্টে কীভাবে তিনি দেশে ফিরবেন—সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, “সেটা তাঁর সমস্যা, আমার নয়। তবে তিনি যে মুহূর্তে দেশে পা রাখবেন, আইন আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছে, আমি তা প্রয়োগ করব।”
আইনমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “আইন আইনের পথেই চলবে। আমরা আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু করব না। ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে তিনি যদি আইনকে সম্মান জানিয়ে আত্মসমর্পণ করতে চান, তবে হয়তো সেটা করার আগেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে।”
বর্তমানে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে বিএনপি সরকার গঠিত হলেও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর আইনি পরিণতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথাই পুনর্ব্যক্ত করল বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসন।

