অভিযোগ জানানো কিংবা আর্জির গণ্ডি পেরিয়ে এবার ধন্যবাদ জানানোর ব্যতিক্রমী ছবি ধরা পড়ল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিতে। বৃহস্পতিবার বিধাননগর সেক্টর ফাইভের বিজেপি কার্যালয়ে আয়োজিত এই দরবারে স্বস্তি ও বিচার পেয়ে সশরীরে হাজির হন তিনটি পরিবার। কেউ হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরে পেয়েছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিনের বেদখল হয়ে থাকা ভিটেমাটি উদ্ধার করতে পেরেছেন। মাত্র ১৫ দিন থেকে দু’মাসের মধ্যে প্রশাসনিক তৎপরতায় সমস্যার সমাধান হওয়ায় আবেগাপ্লুত হয়েই তাঁরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানান।
প্রবীণ প্রবীরের উদ্ধার হলো ফ্ল্যাট
ভবানীপুরের বাসিন্দা অশীতিপর প্রবীরকুমার মুখোপাধ্যায়ের জমি ও বাড়ি নিয়েছিল ‘সান কনস্ট্রাকশন’ নামের এক প্রোমোটিং সংস্থা। অভিযোগ, সংস্থাটি প্রভাবশালী ও তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হওয়ায় চুক্তি অনুযায়ী প্রবীরবাবুকে প্রাপ্য ফ্ল্যাট না দিয়ে বছরের পর বছর আটকে রেখেছিল। বাস্তুহারা হয়ে দিন কাটানো ওই প্রবীণ ব্যক্তি গত ২৫ মে সরকারের ‘জনতার দরবার’-এ গিয়ে অভিযোগ জানান।
এরপর মাত্র দু’মাসের মধ্যে সমস্যার নিরসন ঘটে। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর হাতে একটি চিঠি তুলে দিয়ে প্রবীরবাবু জানান, দরবারে আসার পরেই নির্মাণ সংস্থা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রাপ্য ফ্ল্যাট এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ বুঝিয়ে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর ও ভবানীপুর থানার নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার কথা স্মরণ করে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। মুখ্যমন্ত্রী নিজে তাঁকে মিষ্টিমুখ করান।
নিখোঁজ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া উদ্ধার ওড়িশা থেকে
নদিয়ার চাকদহের বাসিন্দা রিনা রায়ের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া ছেলে ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। চাকদহ থানায় ডায়েরি করেও পুলিশ বিশেষ এগোতে পারেনি। সাত মাস ধরে সন্তানের খোঁজ না পেয়ে হতাশ রিনা গত ১৫ জুলাই ‘জনতার দরবার’-এ মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় হয় এবং মাত্র সাত দিনের মাথায়, ২২ জুলাই ওড়িশার রাউরকেলা থানা থেকে ওই তরুণের খোঁজ মেলে। চাকদহ থানার পুলিশ পরিবারটিকে ওড়িশায় নিয়ে গিয়ে তরুণকে উদ্ধার করে আনে। বৃহস্পতিবার দরবারে উপস্থিত হয়ে ধন্যবাদ জানালে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘পরিবারের সকলকে নিয়ে সুস্থভাবে ঘরসংসার করুন।’’
প্রোমোটারের বেআইনি দখল মুক্ত প্রবীণ জ্যোতির্ময়ের বাড়ি
বেহালার রিপাবলিক গার্ডেনের বাসিন্দা জ্যোতির্ময় জানার বাড়ির নীচের তলা দেবজিৎ পাণ্ডে নামের এক প্রোমোটার ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ চার বছর বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছিলেন। জানা পরিবারের অভিযোগ, দেবজিৎ তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হওয়ায় আদালত মামলায় রায় দেওয়া সত্ত্বেও সাবেক পুলিশ-প্রশাসনের কাছ থেকে কোনও সহায়তা মেলেনি।
গত ২৪ জুন জ্যোতির্ময়বাবু ‘জনতার দরবার’-এ গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বেআইনি দখলদারি ছেড়ে দেয় ওই প্রোমোটার। জ্যোতির্ময়বাবুর পুত্র সায়ন্তন জানান, আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই জমি উদ্ধার সম্ভব হতো না। বৃহস্পতিবার দরবারে আপ্লুত জ্যোতির্ময়বাবু মুখ্যমন্ত্রীকে আলিঙ্গন করে ধন্যবাদ জানান। মুখ্যমন্ত্রীও এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নাগরিকদের যে কোনো অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

