রাজ্যে সাম্প্রতিক ক্ষমতাবদলের পর থেকেই রাজ্যের শাসকদলের একাধিক শীর্ষ নেতা ও মন্ত্রীদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছে। এবার সেই ডিম হামলার প্রসঙ্গই উঠে এল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা নাট্যকার ব্রাত্য বসুর মুখে। শুক্রবার ‘বছরের বেস্ট’ সন্ধ্যার মঞ্চে দাঁড়িয়ে খোদ নিজের নিরাপত্তা নিয়েই মজার ছলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন তিনি।
এ বছর ‘বছরের বেস্ট’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন ব্রাত্য বসু এবং অভিনেত্রী পাওলি দাম। উপস্থাপনার শুরুতেই মঞ্চে উঠে ব্রাত্য বসু উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে কৌতুকের সুরে বলেন, ‘‘আশা করি আমি অপরিচিত হয়ে গিয়েছি! ঝাপসা! আশা করি কেউ ডিমটিম ছুড়বেন না আমার দিকে!’’ এরপর তিনি যোগ করেন, এতদিন এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি অতিথি হিসেবে আসলেও, এবার এসেছেন উপস্থাপকের ভূমিকায়। অনুষ্ঠান জুড়ে পাওলি দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মঞ্চ মাতিয়ে রাখেন এই বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব।
উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রথম ডিম হামলার মুখে পড়েন প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়। উত্তর ২৪ পরগনার নিমতায় তাঁর ওপর এই হামলা হয়। এর ঠিক দু’দিন পরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে এক মৃত দলীয় কর্মীর বাড়ি যাওয়ার পথে ডিম ছোড়া হয় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে।
এরপর থেকেই যেন রাজ্য রাজনীতিতে ধৃত বা অভিযুক্ত রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া একটি নিয়মিত ‘ট্রেন্ড’ বা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। জয়প্রকাশ মজুমদার, সব্যসাচী দত্ত, কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত থেকে শুরু করে নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যানের পুত্র অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়— বিভিন্ন মামলায় যখনই যিনি গ্রেফতার হয়েছেন, তিনিই ডিম হামলার শিকার হয়েছেন। এমনকি এই তালিকার বাইরে যাননি তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও।
বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পর থানায় নিয়ে আসা, শারীরিক পরীক্ষা করাতে নিয়ে যাওয়া কিংবা আদালত থেকে পুলিশ ও জেল হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার পথে প্রায় সর্বত্রই এই ডিম হামলার ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে কেবল অভিযুক্ত নেতারাই নন, তাঁদের সুরক্ষায় নিয়োজিত পুলিশকর্মীদের গায়েও এসে পড়ছে ছোড়া ডিমের অংশ। রাজ্য রাজনীতির এই সমসাময়িক ও বহুল চর্চিত ‘ডিম সংস্কৃতি’র প্রসঙ্গটিই শুক্রবার বছরের বেস্ট সন্ধ্যার মঞ্চে অত্যন্ত হালকা চালে ও রসাত্মকভাবে তুলে ধরেন ব্রাত্য বসু।

