বেন ডাকেটকে লক্ষ্য করে বল ছোঁড়ার অপরাধ: দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে ভারতীয় পেসার গুরনুর ব্রারকে সতর্ক করল আইসিসি

বেন ডাকেটকে লক্ষ্য করে বল ছোঁড়ার অপরাধ: দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে ভারতীয় পেসার গুরনুর ব্রারকে সতর্ক করল আইসিসি

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম এক দিনের (ওডিআই) ম্যাচে নিয়ম ভাঙার দায়ে ভারতীয় বোলার গুরনুর ব্রারকে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা দিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। একই সঙ্গে তাঁর নামের পাশে যোগ হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচের ঠিক আগেই আইসিসির পক্ষ থেকে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ভবিষ্যতে একই আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটলে এই তরুণ পেসারকে আরও কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

প্রথম ম্যাচের ঘটনার বিবরণ

গত মঙ্গলবার ভারত বনাম ইংল্যান্ডের মধ্যকার প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ চলাকালীন এই অনভিপ্রেত ঘটনাটি ঘটে। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ইনিংসের অষ্টম ওভারে বল করার পর নিজের ফলো-থ্রুতে বল কুড়িয়ে নেন গুরনুর ব্রার। এরপর তিনি অকারণে বলটি ইংরেজ ব্যাটার বেন ডাকেটের দিকে লক্ষ্য করে ছুঁড়ে মারেন। ম্যাচ অফিশিয়ালদের মতে, বল ছোঁড়ার এই আচরণটি একেবারেই খেলাধুলার সুলভ ছিল না এবং এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারত।

মাঠের দুই অন-ফিল্ড আম্পায়ার, তৃতীয় আম্পায়ার এবং চতুর্থ আম্পায়ারের যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ভারতীয় এই বোলারের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয় এবং শাস্তি বহাল করা হয়।

আইসিসির আচরণবিধি লঙ্ঘন ও শাস্তি

তদন্ত শেষে ম্যাচ রেফারি জানিয়েছেন, গুরনুর ব্রার আইসিসির আচরণবিধির ২.৯ ধারা লঙ্ঘন করেছেন।

আইসিসির আচরণবিধির ২.৯ ধারা: কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালীন কোনো খেলোয়াড় যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা অযাচিতভাবে বিপক্ষ দলের কোনো খেলোয়াড়, আম্পায়ার বা ম্যাচ অফিশিয়ালের দিকে বা তাঁর শরীরের খুব কাছ দিয়ে বিপজ্জনকভাবে বল ছুঁড়ে মারেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

যেহেতু এটি প্রথম স্তরের (লেভেল ১) অপরাধ ছিল, তাই গুরনুরকে কেবল সতর্ক করার পাশাপাশি ১ ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। সাধারণত এই স্তরের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা এবং ১ বা ২টি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

ডিমেরিট পয়েন্ট ও নির্বাসনের খাড়াই

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, মাঠের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ডিমেরিট পয়েন্টের হিসাব অত্যন্ত কঠোরভাবে করা হয়। গুরনুরের ক্ষেত্রেও এই নিয়মের খাঁড়া ঝুলছে:

  • ২৪ মাসের সময়সীমা: ডিমেরিট পয়েন্ট পাওয়ার পর তা ২৪ মাস পর্যন্ত খেলোয়াড়ের নথিতে সক্রিয় থাকে। ২৪ মাস পেরিয়ে গেলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়।
  • সাসপেনশন পয়েন্টের নিয়ম: কোনো ক্রিকেটার যদি ২৪ মাসের চক্রের মধ্যে ৪ বা তার বেশি ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়ে যান, তবে তা সরাসরি সাসপেনশন বা নির্বাসন পয়েন্টে রূপান্তরিত হয়।
  • ম্যাচ থেকে নির্বাসন: দুটি সাসপেনশন পয়েন্ট পাওয়ার অর্থ হলো— সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারকে ১টি টেস্ট ম্যাচ অথবা ২টি ওয়ানডে কিংবা ২টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.