২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই কালীঘাট শিবিরে ভাঙন অব্যাহত। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের জোর খবর, নতুন শিবিরে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। বৃহস্পতিবার এই জল্পনা প্রসঙ্গে তাপস চট্টোপাধ্যায় নিজেই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছেন।
জল্পনা জিইয়ে রাখলেন প্রাক্তন বিধায়ক
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন প্রাক্তন সিপিএম নেতা তাপস চট্টোপাধ্যায়। ২০২৬-এর নির্বাচনেও তৃণমূলের তরফে তাঁকে পুনরায় টিকিট দেওয়া হয়। তবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কনোড়িয়ার কাছে মাত্র ৩১৬ ভোটে পরাজিত হন তিনি। তাপসের এই পরাজয়ের পর খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে দাবি করেছিলেন, তাপসকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এহেন ‘দিদির ঘনিষ্ঠ’ নেতা এবার তৃণমূল ছাড়ার জল্পনা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন:
“এখনই সব বলছি না। সময় এলেই সব জানতে পারবেন।”
তাঁর এই মন্তব্যে দলবদলের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মিলতে পারে বারাসত সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব
তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির কারণে দলের অন্দরে ‘অভিষেকের লোক’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তাপস চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া রাজারহাট ও বিধাননগর এলাকার রাজনীতিতে আর এক হেভিওয়েট নেতা সব্যসাচী দত্তের সঙ্গে তাঁর তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সর্বজনবিদিত। বর্তমানে সব্যসাচী দত্ত জেলে রয়েছেন।
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, শেষ মুহূর্তে বড় কোনো রদবদল না হলে ঋতব্রত শিবিরের সাংগঠনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেতে চলেছেন তাপস। তাঁকে বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
২১ জুলাইয়ের আগেই চূড়ান্ত ভাঙন, অনড় মমতা
সাম্প্রতিক নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর থেকে বহু জয়ী বিধায়ক মমতা-অভিষেকের নেতৃত্বাধীন মূল দল ছেড়ে ঋতব্রতের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। ঋতব্রতের নেতৃত্বাধীন এই অংশটি নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছে এবং তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের চেয়ারপার্সন পদ থেকেও অপসারণ করেছে। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পৃথক শিবিরকে কোনোভাবেই মান্যতা দিতে রাজি নন।
আসন্ন ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের এই সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আদালতের নির্দেশিকা মেনে এবার কলকাতার দুটি ভিন্ন স্থানে পৃথকভাবে শহিদ দিবস পালিত হতে চলেছে। উল্লেখ্য, বুধবারই কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র আনুষ্ঠানিকভাবে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় কর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, যাঁদের দল ছাড়ার, তাঁরা যেন ২১ জুলাইয়ের আগেই চলে যান। এর পর তিনি নতুন করে দল গড়ে তুলবেন। মমতার এই চরম হুঁশিয়ারির পরই এবার বেসুরো সুর শোনা গেল তাপস চট্টোপাধ্যায়ের গলায়।

