ত্রিপল-সহ বিভিন্ন সরকারি ত্রাণসামগ্রী চুরির অভিযোগে কৃষ্ণনগরে তীব্র চাঞ্চল্য। কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসকে তাঁর নিজের বাড়িতে ঢুকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল। বিক্ষোভকারীদের একাংশ তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে এবং তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালায় বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে স্থানীয় জনতার দাবির মুখে পড়ে মঙ্গলবার রাতে কোতোয়ালি থানার পুলিশ প্রাক্তন মন্ত্রী ও তাঁর এক সঙ্গীকে গ্রেফতার করেছে।
ঘটনাপ্রবাহ: বাড়িতে ঢুকে হামলা ও হেনস্থা
মঙ্গলবার রাতে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলায় প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়িতে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উজ্জ্বলের পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা মূলত বিজেপি কর্মী-সমর্থক। অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই একদল লোক প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে চড়াও হয়। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং উজ্জ্বল বিশ্বাসের গায়ে ও মুখে ডিম ছোড়া হয়। হেনস্থা করা হয় তাঁর পরিবারের আরও এক সদস্যকে।
ঘটনাস্থলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করলে জনতা উজ্জ্বল বিশ্বাসের গ্রেফতারির দাবিতে অনড় থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোতোয়ালি থানার পুলিশ প্রাক্তন মন্ত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশের তরফে জানানো হয়, বেআইনিভাবে সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখার অভিযোগে উজ্জ্বল বিশ্বাস এবং তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চুরির অভিযোগ অস্বীকার পরিবারের
ত্রাণসামগ্রী চুরির এই গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে প্রাক্তন মন্ত্রীর পরিবার। ঘটনাস্থলে উপস্থিত উজ্জ্বলের ভাগ্নে, পেশায় চক্ষুচিকিৎসক সৌম্যনারায়ণ খাটুয়া জানান, কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি।
তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন:
“মামা বিধায়ক হিসেবে নিজের কোটায় এই ত্রাণসামগ্রীগুলি পেয়েছিলেন। বিলি না হওয়া কিছু ত্রিপল, ধুতি, শাড়ি, জামা এবং লেগিংস ঘরেই রাখা ছিল। সম্প্রতি মামা নিজে নদীয়ার জেলাশাসক এবং কৃষ্ণনগর-২ ব্লকের বিডিও-কে চিঠি লিখে এই বাড়তি সামগ্রীগুলি ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।”
পারিবারিক সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশকে সাথে নিয়ে বিডিও অফিসের কর্মীরা সেই সামগ্রীগুলি ফেরত নিয়ে যেতেই এসেছিলেন। কিন্তু তাঁদের সঙ্গেই বিজেপি কর্মীরা এসে আচমকা এই হামলা চালায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণনগর এলাকায় রাজনৈতিক পারদ চড়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

