পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীনই রাজ্যে নির্বাচনী পরিবেশ এবং ফলাফল নিয়ে বড়সড় দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার উত্তরপ্রদেশে ‘গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে’-র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান থেকে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেতে চলেছে বিজেপি। গুজরাত ও বিহারের সাম্প্রতিক সাফল্যের উদাহরণ টেনে তাঁর দাবি, এবার জয়ের ‘হ্যাট্রিক’ করবে পদ্মশিবির।
ভয়মুক্ত পরিবেশ ও নজিরবিহীন ভোটদান: এদিন ভাষণের শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফাতেও বিপুল সংখ্যায় মানুষ ভোট দিতে বেরোচ্ছেন। গণতন্ত্রের উৎসবে মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘ লাইনের ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। গত ছয়-সাত দশকে যা কল্পনাও করা যেত না, এবার সেটাই ঘটছে।” প্রধানমন্ত্রীর মতে, সাধারণ মানুষ এবার সম্পূর্ণ ভয়মুক্ত পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন, যা দেশের মজবুত গণতান্ত্রিক কাঠামোরই পরিচয়।
জয়ের হ্যাটট্রিক নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মোদী: নির্বাচনী ফলাফলের আগাম পূর্বাভাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন:
- গুজরাতের সাফল্য: গতকালই গুজরাতের পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি ৮০-৮৫ শতাংশ আসনে জয়লাভ করেছে।
- বিহার প্রসঙ্গ: বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি যে ইতিহাস গড়েছে, তার ধারা বজায় থাকবে পাঁচ রাজ্যেও।
- ৫ রাজ্যে জয়: প্রধানমন্ত্রীর দাবি, “আমি বিশ্বাস করি, ৫ রাজ্যের ভোটে বিজেপি ঐতিহাসিক জয়ের হ্যাট্রিক করবে। ৪ মে-র ফলাফল ‘বিকশিত ভারত’-এর সংকল্পকে আরও মজবুত করবে।”
উন্নয়ন ও পরিকাঠামোয় জোর: প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে, নির্বাচনী জয় কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং দেশের উন্নয়নের গতিতে নতুন শক্তি সঞ্চার করবে। দ্রুত বিকাশের জন্য আধুনিক পরিকাঠামো তৈরির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এই জয় দেশের মানুষের স্বপ্নপূরণের পথে বড় পদক্ষেপ হবে।
পশ্চিমবঙ্গের ভোটপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রধানমন্ত্রীর এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং বিপুল জয়ের দাবি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ৪ মে ভোটগণনার দিনেই স্পষ্ট হবে প্রধানমন্ত্রীর এই আত্মবিশ্বাস বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয়।

