২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হতেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। একদিকে যখন বিভিন্ন বুথফেরত সমীক্ষায় বিজেপি-র এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলছে, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা গেল ভোটকুশলী যোগেন্দ্র যাদব এবং শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে। ২০০৬ সালে বামফ্রন্টের ২৩৫টি আসন পাওয়ার নির্ভুল পূর্বাভাস দিয়ে চমকে দেওয়া যোগেন্দ্র যাদব এবারও তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বড় দাবি করেছেন।
যোগেন্দ্র যাদবের বিশ্লেষণ: তৃণমূলেরই পাল্লা ভারী নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে যোগেন্দ্র যাদব জানিয়েছেন, বিভিন্ন বুথফেরত সমীক্ষা বিশ্লেষণ করে তাঁর স্পষ্ট ধারণা— যদি ভোটদান প্রক্রিয়া সঠিক ও স্বচ্ছ হয়ে থাকে, তবে তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোনো সমস্যা হবে না। তাঁর মতে, কোনো প্রকার অনৈতিক হস্তক্ষেপ বা ‘রিগিং’ ছাড়া বিজেপি-র পক্ষে জয় পাওয়া কঠিন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ২০২১ এবং ২০২৪ সালের পরিসংখ্যানের নিরিখে তৃণমূলের জনভিত্তি এখনও অটুট।
প্রণয় রায়ের ‘ডিকোডার’: ১৪৪-১৪৪-এর সমীকরণ বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রণয় রায়ের নির্বাচনী ‘ডিকোডার’ আবার এক অভূতপূর্ব ও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ডিকোডারের রিডিং অনুযায়ী:
- তৃণমূল কংগ্রেস: ১৪৪টি আসন
- বিজেপি: ১৪৪টি আসন
- কংগ্রেস: ১টি আসন এই সমীকরণ অনুযায়ী রাজ্য বিধানসভা এক ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতির দিকেও এগোতে পারে, যেখানে বামেদের কার্যত কোনো অস্তিত্বই দেখা যাচ্ছে না।
তৃণমূলের দাবি: ‘২৩০ পার এবং নন্দীগ্রামে জয়’ বুথফেরত সমীক্ষার ডামাডোলের মধ্যেই অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (AITC) তাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী:
- আসন সংখ্যা: তৃণমূল ২৩০টির বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে।
- হেভিওয়েট লড়াই: নন্দীগ্রাম আসনে তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে এবং ভবানীপুর কেন্দ্রে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কোনো লড়াই দিতে পারেননি।
- নির্ণায়ক ইস্যু: শাসকদলের মতে, এটি ছিল মূলত ‘জনরোষের ভোট’ (Vote of Anger)। বহিরাগত বনাম বাঙালি পরিচিতির লড়াইকে হাতিয়ার করে তাঁরা সফল হয়েছেন। বিশেষ করে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পালের বিরুদ্ধে মহিলাদের হুমকির অভিযোগ সাধারণ মানুষের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
মহিলা ও পরিযায়ী শ্রমিকদের ভূমিকা: তৃণমূলের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তাঁরা সফলভাবে মহিলা ভোটারদের সংগঠিত করতে পেরেছেন। এছাড়া যে সমস্ত জেলায় কঠিন লড়াই ছিল, সেখানে পরিযায়ী শ্রমিকদের সমর্থন তাঁদের পাল্লা ভারী করেছে।
সবশেষে তৃণমূলের আত্মবিশ্বাসী বার্তা— আগামী ৪ মে গণনার দিন রাজ্যজুড়ে ‘রবীন্দ্রসঙ্গীত ও ডিজে’র যুগলবন্দিতে অকাল হোলি উদ্যাপিত হবে। এখন দেখার, যোগেন্দ্র যাদব ও তৃণমূলের এই আত্মবিশ্বাস বাস্তবে রূপ পায় নাকি বুথফেরত সমীক্ষার ইঙ্গিত অনুযায়ী নবান্নে পরিবর্তনের হাওয়া লাগে।

