পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মেগা লড়াই শেষ হলো বুধবার। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের পরেই সামনে আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষা বা ‘এক্সিট পোল’-এর ফলাফল। আর সেই পরিসংখ্যান ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তুমুল উত্তেজনা। কয়েকটি সমীক্ষা বিজেপি-র বিশাল জয়ের ইঙ্গিত দিলেও, কোনো কোনো সংস্থা আবার তৃণমূলের ওপরেই ভরসা রাখছে। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।
নজিরবিহীন ভোটদান: পরিবর্তনের ইঙ্গিত?
এবারের নির্বাচনে বাংলার ভোটাররা এক ঐতিহাসিক নজির গড়েছেন। দুই দফার ভোট মিলিয়ে রাজ্যে মোট ৯১.৪৭% ভোট রেকর্ড করা হয়েছে।
- প্রথম দফা (২৩ এপ্রিল): ১৫২টি আসনে ভোট পড়েছিল রেকর্ড ৯৩.২ শতাংশ।
- দ্বিতীয় দফা (২৯ এপ্রিল): আজ বাকি ১৪২টি আসনে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট পড়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিশাল সংখ্যক ভোটদান কি রাজ্যে কোনো বড়সড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস, নাকি তৃণমূলের প্রতি জনসমর্থনের বহিঃপ্রকাশ— তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
কী বলছে বিভিন্ন সংস্থার সমীক্ষা?
১৪৮ আসনের ‘ম্যাজিক ফিগার’ স্পর্শ করা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছে:
১. প্রজা পোল (Praja Poll)-এর চমকপ্রদ তথ্য: এই সংস্থার সমীক্ষা অনুযায়ী, তৃণমূলের দুর্গে বড়সড় ধস নামতে পারে।
- বিজেপি: ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসন (২০২১-এর ৭৭টি আসনের তুলনায় বিশাল বৃদ্ধি)।
- তৃণমূল কংগ্রেস: ৮৫ থেকে ১১০টি আসন (২০২১-এর ২১৫টি আসনের তুলনায় বিশাল পতন)। এই দাবি সত্যি হলে, বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নবান্ন দখলের পথে অনেকটা এগিয়ে যাবে।
২. পিপলস পালস (People’s Pulse)-এর ভিন্ন সুর: যেখানে অধিকাংশ সংস্থা বিজেপি-কে এগিয়ে রেখেছে, সেখানে ‘পিপলস পালস’ তৃণমূল কংগ্রেসের বড় জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দুর্গ রক্ষা করতে সফল হবেন।
৩. হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস: অন্যান্য কিছু সমীক্ষক সংস্থার মতে, বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে ‘কাঁটে কা টক্কর’ বা সমানে-সমানে লড়াই হতে চলেছে। ভোট শতাংশের ব্যবধান এতটাই কম যে এখনই নিশ্চিতভাবে কাউকেই বিজয়ী ঘোষণা করা সম্ভব নয়।

