বগটুই মানবতার কলঙ্ক, তৃণমূলের ‘মহা জঙ্গলরাজ’ চলছে: সিউড়ির সভা থেকে তোপ মোদীর

বগটুই মানবতার কলঙ্ক, তৃণমূলের ‘মহা জঙ্গলরাজ’ চলছে: সিউড়ির সভা থেকে তোপ মোদীর

বীরভূমের মাটি থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিউড়ির চাঁদমারি মাঠের জনসভা থেকে বগটুই হত্যাকাণ্ডকে ‘মানবতার কলঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, “যেখানে নারী ও শিশুদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়, সেটাই তৃণমূলের মহা জঙ্গলরাজ।” প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল নেতাদের ‘আশীর্বাদেই’ বীরভূম তথা বাংলায় এই অরাজকতা চলছে।


আদিবাসী সম্মান ও নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে আক্রমণ

মঞ্চে উঠে বীরভূমের ১১ জন প্রার্থীর হাত ধরে ঐক্যের বার্তা দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাধক বামাখ্যাপাকে স্মরণ করেন। এরপরই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানানো রাষ্ট্রের কর্তব্য। কিন্তু অহংকারী তৃণমূল আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধিকে অপমান করেছে।”

রামপুরহাটের তুমবুনি গ্রামে আদিবাসী ছাত্রীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মেয়েদের সুরক্ষার জন্য ভয় নয়, বরং ভরসার বিজেপি সরকার প্রয়োজন।”


‘বোমা এখন কুটির শিল্প’: দুর্নীতি ও শিল্পায়ন নিয়ে কটাক্ষ

বীরভূমের খনিজ ও শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন মোদী। তাঁর দাবি:

  • সম্পদ লুঠ: বালি, পাথর ও কয়লা মাফিয়াদের দাপট তৃণমূল নেতাদের মদতেই বাড়ছে।
  • শিল্পের অভাব: পরিকল্পনার অভাবে দেউচা-পাঁচামি কয়লা খনির কাজ বন্ধ।
  • বিস্ফোরক মন্তব্য: প্রধানমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, “এখানে কোনো শিল্প নেই, সমস্ত কুটির শিল্প বন্ধ। এখন বোমা তৈরিই এখানকার বড় শিল্প এবং কুটির শিল্পে পরিণত হয়েছে।”

অনুপ্রবেশ ও পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা

অনুপ্রবেশকারী ইস্যু তুলে মোদী বলেন, “তৃণমূলের মূল ভরসা হলো অনুপ্রবেশকারীরা। তারা প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে সরকারি সুবিধা ভোগ করছে, আর বাংলার ভূমিপুত্রদের কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে যেতে হচ্ছে।” বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।


‘পিএম-সিএম’ সংঘাত ও উন্নয়নের রোডম্যাপ

দুবরাজপুর বাইপাসের কাজ আটকে থাকার উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের প্রকল্পগুলিতে রাজ্য সরকার বাধা দিচ্ছে। তাঁর কথায়, “পিএম কোনো পারিবারিক সম্পত্তি নয়, মানুষের আশীর্বাদ। কিন্তু পিএম নাম শুনলে মুখ্যমন্ত্রী তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো চালু করতে দেন না।”

বিজেপি ক্ষমতায় এলে কী কী সুবিধা মিলবে?

  • ডবল ইঞ্জিন সরকার: সিউড়ি ও বাংলার সামগ্রিক বিকাশে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়।
  • কর্মসংস্থান ও ভাতা: বেকারদের কর্মসংস্থান এবং রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন অনুযায়ী ডিএ (DA) প্রদান।
  • ১০০ দিনের কাজ: ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি এবং কোনো ‘কাটমানি’ ছাড়াই সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা।

সবশেষে ৪ মে-র পর বাংলায় ‘সিন্ডিকেটরাজ’ ও ‘গুন্ডারাজ’ খতম করার হুঙ্কার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি ভয় নয়, বিশ্বাস দিতে এসেছি। একজন বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে আসুন, পিএম এবং সিএম মিলে বাংলার উন্নয়ন করবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.