পাইকপাড়ায় ক্লাবের ভেতরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: উদ্ধার সজীব বোমা, নেপথ্যে কি প্রোমোটিং বিবাদ?

পাইকপাড়ায় ক্লাবের ভেতরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: উদ্ধার সজীব বোমা, নেপথ্যে কি প্রোমোটিং বিবাদ?

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে খাস কলকাতায় সাতসকালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। শনিবার ভোরে পাইকপাড়ার গাঙ্গুলিপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত ক্লাবঘরে পর পর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। এই ঘটনায় জনমানসে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আরও ছয়টি সজীব বোমা উদ্ধার করেছে বম্ব স্কোয়াড। ক্লাবের জমি দখল ও প্রোমোটিং সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই এই নাশকতামূলক কাজ কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বিস্ফোরণের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি

শনিবার ভোরবেলা স্থানীয় ‘যুবশক্তি’ ক্লাব থেকে পর পর তিনটি বিকট শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে ক্লাবঘরের টিনের চাল উড়ে গিয়ে পাশের একটি ছয় তলা বাড়ির ছাদে আছড়ে পড়ে। সামনের বাড়িগুলির জানলার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। ক্লাবঘরের ভেতরে আগুন লেগে গেলে দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে তা নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিস্ফোরণস্থলের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে:

  • ক্লাবের পেছনের দুর্বল দেওয়াল ভেঙে দুষ্কৃতীরা ভেতরে প্রবেশ করেছিল।
  • ঘটনাস্থল থেকে আরও ৬টি তাজা বোমা এবং দুটি বোতলভর্তি সন্দেহজনক তরল উদ্ধার হয়েছে।
  • ক্লাবের ভেতরে কেরোসিন তেল মজুত ছিল বলে দাবি করেছেন ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

প্রোমোটিং চক্রের হাত? মুখ খুললেন ক্লাব প্রেসিডেন্ট

কয়েক দশকের পুরনো এই ক্লাবের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শরিকি বিবাদ চলছে। ক্লাবের প্রেসিডেন্ট শ্রাবণী বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে জানিয়েছেন, ক্লাবটি দখল করে প্রোমোটিং করার জন্য তাঁদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল।

তিনি বলেন, “আমাদের বারবার ক্লাব ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে, ভয় দেখানো হয়েছে। ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতেই কেউ বোমা রেখে গিয়েছে। ক্লাবের জমির পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি থাকা এক ব্যক্তির দিকে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।” এর আগেও ক্লাবে চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি এখনই নির্দিষ্ট কারও নাম নিতে চাননি।

ভোটের মুখে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

রাজ্যে ইতিমদধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে এসেছে এবং রুট মার্চ শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতার শান্ত পাড়া হিসেবে পরিচিত পাইকপাড়ায় এমন বিস্ফোরণ শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

  • পুলিশি পদক্ষেপ: চিৎপুর থানার পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। কে বা কারা ভোরে ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: এই ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি এবং রাজ্য প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের দিকে আঙুল তোলেননি।

ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে। এটি কেবল প্রোমোটিং বিবাদ নাকি এর পেছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে, তা উদ্ঘাটন করাই এখন পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.