রাজধানী দিল্লি-সহ দেশের একাধিক বড় শহরে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী লশকর-এ-তৈবা (LeT) বড়সড় নাশকতার ছক কষছে— গোয়েন্দাদের এই চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাঞ্জাব ও কাশ্মীর থেকে উদ্ধার হলো আইইডি (ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস)। যদিও এই বিস্ফোরক উদ্ধারের সঙ্গে বর্তমান জঙ্গি সতর্কবার্তার সরাসরি কোনো যোগসূত্র এখনো পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
পাঞ্জাব ও কাশ্মীরে উদ্ধার বিস্ফোরক
শনিবার গোয়েন্দা সতর্কবার্তা জারি হওয়ার সময়কালেই দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের খবর আসে:
- অমৃতসর (পাঞ্জাব): শুক্রবার অমৃতসরের রায়া থানা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ব্যাগের ভেতর থেকে আইইডি উদ্ধার হয়। একটি পুলিশ চৌকির সামনে এই বিস্ফোরক পড়ে থাকতে দেখা যায়। অমৃতসরের পুলিশ সুপার সোহেল কাশিম মীর জানিয়েছেন, বম্ব স্কোয়াড দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্ফোরকটি নিষ্ক্রিয় করেছে।
- গান্ডরবাল (কাশ্মীর): জম্মু-কাশ্মীরের গান্ডারবাল জেলার সাফাপোরা এলাকাতেও সেনার বম্ব ডিটেকশন স্কোয়াড এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি আইইডি উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করা হয়। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারও উত্তর কাশ্মীরের বারামুলায় একই ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছিল।
গোয়েন্দা সতর্কতা ও লশকর-এ-তৈবার ছক
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, লশকর জঙ্গিরা দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকা, চাঁদনী চকের মতো জনবহুল বাজার এবং গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এই সতর্কবার্তার পরেই দিল্লি-সহ দেশের মেগাসিটিগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
অতীত হামলার প্রেক্ষাপট ও তদন্ত
গোয়েন্দারা গত বছরের ১০ নভেম্বরের ঘটনার কথা মাথায় রেখে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। ওইদিন দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের সামনে একটি ভয়াবহ গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে হামলাকারীসহ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছিল জইশ-ই-মহম্মদ ঘনিষ্ঠ ‘ডক্টরস মডিউল’-এর নাম। সেই ঘটনার তদন্ত চলাকালীনই লশকর-এ-তৈবার এই নতুন নাশকতার ছক নিরাপত্তারক্ষীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে:
- দিল্লির ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানগুলিতে সশস্ত্র পাহারা বসানো হয়েছে।
- বিমানবন্দর, রেল স্টেশন এবং বাস টার্মিনালগুলিতে চেকিং জোরদার করা হয়েছে।
- পাঞ্জাব ও কাশ্মীর সীমান্তে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে কোনো সন্দেহভাজন বস্তু দেখলে তৎক্ষণাৎ পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেছে।

