শুল্কনীতি নিয়ে বড় ধাক্কা ট্রাম্পের: মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপকে ‘বেআইনি’ ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট

শুল্কনীতি নিয়ে বড় ধাক্কা ট্রাম্পের: মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপকে ‘বেআইনি’ ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শুল্ক নির্ধারণ নিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে বড়সড় আইনি বাধার মুখে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়ে দিয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন শুল্ক নীতি (Tariff Policy) চাপিয়ে দেওয়ার কোনো আইনি এক্তিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই। আদালতের এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশ নীতির ওপর এক বিরাট চপেটাঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।


আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন ৯ বিচারপতির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর ৬-৩ ভোটে ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। আদালতের মূল পর্যবেক্ষণগুলি হলো:

  • ক্ষমতার অপব্যবহার: শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে একক সিদ্ধান্তে আমদানির ওপর বিশাল অঙ্কের শুল্ক আরোপ করা ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া আর কিছু নয়।
  • কংগ্রেসের ভূমিকা: মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, শুল্ক সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কংগ্রেসের। প্রেসিডেন্টের এককভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো সাংবিধানিক অধিকার নেই।
  • আইনের অপব্যাখ্যা: বিচারপতিরা ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (IEEPA)-র প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই আইন প্রেসিডেন্টকে এককভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে হস্তক্ষেপ করার অবারিত ক্ষমতা দেয়নি।

আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে প্রভাব

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক সমীকরণে বড় ধরনের রদবদল ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে:

  1. পুরানো চুক্তি পুনর্বিবেচনা: ট্রাম্পের শুল্কবাণের ভয়ে ভারতসহ যে দেশগুলি নতুন বাণিজ্য চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছিল, সেই চুক্তিগুলির ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে।
  2. বাণিজ্য যুদ্ধের অবসান? ট্রাম্পের একতরফা শুল্ক আরোপের ফলে চিনের মতো দেশগুলির সঙ্গে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, আইনি বাধায় তা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।
  3. শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি: আদালত এই নীতিকে ‘বেআইনি’ বলায়, ইতিমধ্যে কার্যকর হওয়া বর্ধিত শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি তুলতে পারে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও আমদানিকারক সংস্থাগুলি।

ট্রাম্প প্রশাসনের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এই রায় তাঁর সেই রণকৌশলকে আইনি খাঁচায় বন্দি করল। এখন প্রশ্ন উঠছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ট্রাম্প কি আদৌ তাঁর ঘোষিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবেন?

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় কেবল ট্রাম্পের ব্যক্তিগত পরাজয় নয়, বরং আমেরিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ‘চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্স’ বা ক্ষমতার ভারসাম্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.