সুকান্ত মজুমদারকে মানহানির আইনি নোটিস রাজীব কুমারের, নিঃশর্ত ক্ষমার দাবি

সুকান্ত মজুমদারকে মানহানির আইনি নোটিস রাজীব কুমারের, নিঃশর্ত ক্ষমার দাবি

কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ তুলে আইনি নোটিস পাঠালেন রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি তথা বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি সচিব রাজীব কুমার। কয়লা ও গরু পাচারকাণ্ডের মতো গুরুতর বিষয়ে রাজীব কুমারের নাম জড়িয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আগামী সাত দিনের মধ্যে সমাজমাধ্যমে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে, অন্যথায় ফৌজদারি মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন প্রাক্তন এই আইপিএস অফিসার।


অভিযোগের প্রেক্ষাপট ও মূল বিষয়

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ চলাকালীন শিলিগুড়ির মাটিগাড়া-নকশালবাড়িসহ বিভিন্ন জনসভায় রাজীব কুমারকে নিশানা করেন সুকান্ত মজুমদার। রাজীব কুমারের আইনজীবীর দাবি:

  • চরিত্রহনন: ইচ্ছাকৃতভাবে রাজীব কুমারের পেশাগত সম্মান ও সামাজিক খ্যাতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হয়েছে।
  • ভিত্তিহীন যোগসূত্র: কোনো প্রমাণ ছাড়াই প্রাক্তন ডিজি-কে কয়লা ও গরু পাচার মামলার সঙ্গে যুক্ত করে জনমানসে তাঁর ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করা হয়েছে।
  • ডিজিটাল প্রমাণ: ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়া সুকান্ত মজুমদারের বক্তৃতার নির্দিষ্ট ভিডিও লিঙ্কসহ দু’পাতার এই নোটিস পাঠানো হয়েছে।

আইনি নোটিসের শর্তাবলি

গত ৩০ জানুয়ারি পাঠানো এই নোটিসে রাজীব কুমারের আইনজীবী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে:

  1. কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে প্রতিটি সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে স্বীকার করতে হবে যে তাঁর করা মন্তব্যগুলি ভিত্তিহীন ও যাচাই না করা ছিল।
  2. নোটিস প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
  3. এই সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সুকান্ত মজুমদারের প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা চ্যালেঞ্জ

চিঠিটি বালুরঘাটে সুকান্ত মজুমদারের সংসদীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সংসদ অধিবেশন ও দলীয় কর্মসূচির কারণে সেটি হাতে পেতে দেরি হয়েছে বলে তাঁর দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে বিষয়টিতে পিছু হটতে নারাজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন:

“ওঁর ভাবমূর্তি সম্পর্কে সবাই অবগত। ফাইল লোপাটের অভিযোগে সিবিআই ওঁর বাড়িতে গিয়েছিল। ওঁর ইমেজ উনি নিজেই তৈরি করে রেখেছেন, আমি নতুন করে কী উজ্জ্বল করব? আদালত ওঁর বিষয়ে কী পর্যবেক্ষণ দিয়েছে তা সবাই জানে। উনি আইনি পথে লড়তে চাইলে আমরাও আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।”

সূত্রের খবর, রাজীব কুমারের নোটিসের একটি পাল্টা জবাবও ইতিমধ্যে সুকান্ত মজুমদারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। এই আইনি লড়াই আগামী দিনে রাজনৈতিক মহলে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.