বাজেট ২০২৬: তারকাদের নিশানায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী; বঞ্চনার অভিযোগে সরব রচনা-দেবদূত, রক্ষাকর্তা হিসেবে রুদ্রনীল

বাজেট ২০২৬: তারকাদের নিশানায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী; বঞ্চনার অভিযোগে সরব রচনা-দেবদূত, রক্ষাকর্তা হিসেবে রুদ্রনীল

কলকাতা

রবিবার দেশের নবম বাজেট পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। আর এই বাজেট ঘিরেই এখন সরগরম টলিপাড়া। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম থেকে শুরু করে আয়কর— সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পারদ ছিল তুঙ্গে। তবে বাজেট শেষে প্রাপ্তির ঝুলি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিশেষ করে বাংলার প্রতি ‘বঞ্চনা’র অভিযোগে যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব, তখন কলকাতার বিনোদন জগতের তৃণমূল, বিজেপি ও বাম শিবিরের তারকা-রাজনীতিবিদরা বিভক্ত তিন ভিন্ন মতে।


“সাধারণ মানুষ কী পেল?”: হতাশ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়

হুগলির সাংসদ তথা তৃণমূল নেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বাজেটকে চরম হতাশাজনক বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য এই বাজেটে উল্লেখ করার মতো কিছুই নেই।

  • আয়কর ও জিএসটি: রচনার আক্ষেপ, “আমরা অনেক কিছু প্রত্যাশা করেছিলাম। সাধারণ মানুষের কথা ভেবে অন্তত আয়করের জায়গাটা বিবেচনা করা উচিত ছিল। এখন সব কিছুর ওপর জিএসটি, তা কমার আশা ছিল, কিন্তু কিছুই হলো না।”
  • বাংলা প্রসঙ্গে: রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে তাঁর সাফ কথা, বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি একটি ট্রেনের ঘোষণা দায়সারা পদক্ষেপ ছাড়া আর কিছুই নয়।

“যৌক্তিক ও উন্নয়নমুখী বাজেট”: প্রশংসায় রুদ্রনীল ঘোষ

বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ এই বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মধ্যবিত্তের প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসের দাম কমানো হয়েছে।

  • সস্তা হচ্ছে যা কিছু: ক্যানসারের ১৭টি জীবনদায়ী ওষুধের পাশাপাশি সোলার প্যানেল, চামড়ার পণ্য, মোবাইলের ব্যাটারি এবং মাইক্রোওয়েভের দাম কমার বিষয়টিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
  • বাংলার প্রাপ্তি: রুদ্রনীল দাবি করেন, “পশ্চিমবঙ্গকে অন্ধকারের রাজ্য থেকে বের করে আনতে ডানকুনি-সুরাট বিজনেস করিডর এবং রেল করিডরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও কলকাতা মেট্রো, বেঙ্গল কেমিক্যাল ও সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউটের জন্য বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।”
  • লাখপতি দিদি: তাঁর মতে, মহিলাদের স্বনির্ভর করতে ‘লাখপতি দিদি’ প্রকল্প এবং ছাত্রীদের জন্য হোস্টেল তৈরির ঘোষণা এই বাজেটের শ্রেষ্ঠ দিক।

“ওষুধের দাম কমলেও সুরাহা কোথায়?”: প্রশ্নে দেবদূত ঘোষ

বামপন্থী অভিনেতা তথা নেতা দেবদূত ঘোষ ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দিহান।

  • ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা: তাঁর কথায়, “আমার মা ৮৪ বছরের শয্যাশায়ী বৃদ্ধা। নিয়মিত ওষুধ কিনতে হয়। কিন্তু কই, বাস্তবে তো ওষুধের দামে কোনও সুরাহা দেখছি না।”
  • কৃষক ও মধ্যবিত্ত: তিনি অভিযোগ করেন, পেট্রোল-ডিজেলের দাম না কমায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমার সম্ভাবনা নেই।
  • শিক্ষা ও গবেষণা: দেবদূতের দাবি, স্কুলছুট পড়ুয়াদের সংখ্যা কমানোর কোনও পরিকল্পনা নেই এবং গবেষকদের স্টাইপেন্ডও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, মোদী সরকার কেবল মুষ্টিমেয় কিছু বড়লোক পরিবারকে আরও ধনী করার কথা ভাবে।

এক নজরে বাজেটে যা সস্তা ও মহার্ঘ হলো:

সস্তা হতে পারেমহার্ঘ হতে পারে
ক্যানসারের ১৭টি ওষুধবিদেশি ঘড়ি
সোলার প্যানেল ও মোবাইল ব্যাটারিবিদেশি মদ
চামড়ার পণ্য ও জুতোনির্দিষ্ট কিছু আমদানিকৃত যন্ত্রাংশ
মাইক্রোওয়েভ ওভেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.