পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। এই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনী নজরদারির জন্য কমিশন যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গের ২৫ জন সিনিয়র অফিসারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এই তালিকায় রাজ্যের বর্তমান স্বরাষ্ট্র সচিবের নাম থাকায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তালিকায় স্বরাষ্ট্র সচিব ও কমিশনাররা
কমিশনের প্রকাশিত তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের মোট ১৫ জন আইএএস (IAS) এবং ১০ জন আইপিএস (IPS) আধিকারিক রয়েছেন। নজরকাড়া নামগুলির মধ্যে রয়েছে:
- জগদীশ প্রসাদ মিনা: রাজ্যের বর্তমান স্বরাষ্ট্র সচিব।
- পুলিশ কমিশনারগণ: হাওড়া এবং আসানসোলের পুলিশ কমিশনার।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আধিকারিককে তাঁর নিজের রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয় না। তাই স্বরাষ্ট্র সচিব মিনা কি পশ্চিমবঙ্গেই দায়িত্ব পাবেন নাকি তাঁকে ভিন রাজ্যে পাঠানো হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে। তবে তাঁর মতো শীর্ষপদস্থ আমলার নাম তালিকায় থাকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
৫ বার রিমাইন্ডারের পর সরাসরি ব্যবস্থা
নির্বাচন কমিশনের দাবি, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগের জন্য নবান্নের কাছে অন্তত ৫ বার আধিকারিকদের নাম চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বারবার সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও নবান্নের তরফে কোনো তালিকা পাঠানো হয়নি। এই অসহযোগিতার কারণেই কমিশন নিজস্ব ক্ষমতাবলে রাজ্যের সিনিয়র অফিসারদের তালিকা চূড়ান্ত করে তা প্রকাশ করেছে। সূত্রের খবর, কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পাল্টা প্রতিবাদ জানিয়ে নবান্ন শীঘ্রই চিঠি পাঠাতে চলেছে।
কড়া নির্দেশিকা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি কমিশন একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে:
- বাধ্যতামূলক বৈঠক: তালিকাভুক্ত সমস্ত আইএএস ও আইপিএস আধিকারিককে একটি ‘ব্রিফিং’ বৈঠকে উপস্থিত থাকতে হবে।
- উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিটি আধিকারিকের কাছে ই-মেল বা অন্য মাধ্যমে নোটিশ পাঠাতে হবে এবং তাঁদের প্রাপ্তি স্বীকার (Acknowledgment) সংগ্রহ করতে হবে।
- শাস্তির সতর্কতা: কোনো আধিকারিক বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকলে কমিশন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই কেন্দ্রীয় সংস্থা বনাম রাজ্য প্রশাসনের এই আকচা-আকচি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পারদকে আরও বাড়িয়ে দিল।

