রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের বিদায়কালীন বার্তা ঘিরে সরগরম হয়ে উঠল বঙ্গ রাজনীতি। নিজের সংবর্ধনা সভায় রাজীব কুমার দাবি করেন, কেবল প্রাণহানি বা বলপ্রয়োগ নয়, বরং দৃঢ় মানসিকতা ও ‘সৎ সাহস’ থাকলে যেকোনো জটিল পরিস্থিতির মোকাবিলা করা সম্ভব। তাঁর এই বক্তব্যের রেশ ধরেই পাল্টা তোপ দেগেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
রাজীব কুমারের ‘সাহসের সংজ্ঞা’
সংবর্ধনা সভায় সহকর্মীদের উদ্দেশে রাজীব কুমার বলেন, কর্তব্য পালনে প্রাণ বিসর্জন দিতে প্রস্তুত থাকা পুলিশের কাছে গর্বের বিষয়। তাঁর মতে:
- সৎ সাহস: সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি হলো সৎ সাহস বজায় রাখা।
- শান্তিপূর্ণ মোকাবিলা: সাহস মানে কেবল গুলি চালানো বা মানুষ মারা নয়; বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং নিজের সঠিক সিদ্ধান্তে অনড় থাকাই হলো প্রকৃত সাহসিকতা।
- ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ: পশ্চিমবঙ্গ কৌশলগত ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকায় এ রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা অন্য রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের সমন্বয়ে সেই কাজ সফলভাবে হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
সুকান্ত মজুমদারের কড়া আক্রমণ
রাজীব কুমারের এই মন্তব্যকে ‘দ্বিমুখী আচরণ’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি ডিজি-র অতীত মন্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন:
“একসময় এই রাজীব কুমারই বলেছিলেন যে পুলিশের দিকে একটা গুলি চললে তিনি তিনটি গুলি চালাবেন। আজ হঠাৎ করে তিনি সাহসের অন্য সংজ্ঞা দিচ্ছেন কেন?”
সুকান্তবাবুর অভিযোগ, রাজীব কুমারের কার্যকালেই পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। চন্দন ও হরগোবিন্দের মতো হত্যাকাণ্ড এবং ঘরছাড়া মানুষের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন যে রাজীব কুমারের আমল আদতে অশান্তির ছায়ায় ঢাকা ছিল।
সমন্বয়ের দাবি বনাম বিরোধীদের প্রশ্ন
বিদায়ী ডিজি যেখানে রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ বাহিনীকে কৃতিত্ব দিয়েছেন, সেখানে বিরোধী শিবিরের দাবি— পুলিশ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে বলেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গোলমালের ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে, রাজীব কুমারের বিদায়লগ্নে তাঁর প্রশাসনিক দর্শনের কাটাছেঁড়া এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

