পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক জমি শক্ত করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে বিজেপি। আগামী মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি দিল্লির বুকে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এই বৈঠকে বাংলার সমস্ত বিজেপি সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের সময় ও উপস্থিত সদস্য
সংসদীয় অধিবেশনের ব্যস্ততা মাথায় রেখে বৈঠকটি ডাকা হয়েছে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। মূলত ১৫ জন সাংসদ এবং ৫ জন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকসহ মোট ২০ জন এই আলোচনায় অংশ নেবেন।
- সাংসদ তালিকা: লোকসভার ১২ জন প্রতিনিধি এবং রাজ্যসভার ৩ সদস্য— শমীক ভট্টাচার্য, অনন্ত মহারাজ ও হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।
- পর্যবেক্ষক ও নেতৃত্ব: সুনীল বনসল, মঙ্গল পাণ্ডে, ভূপেন্দ্র যাদব, বিপ্লব দেব এবং আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য।
- বিশেষ উপস্থিতি: রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য এবং সুকান্ত মজুমদারও এই রণকৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
অগ্রাধিকারের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ
রাজনৈতিক মহলের মতে, সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নিতিন নবীনের কার্যকলাপে স্পষ্ট যে বাংলা তাঁর পাখির চোখ। ১. দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বৈঠকটি করেছিলেন বাংলার নেতাদের সাথেই। ২. সভাপতি হিসেবে তাঁর প্রথম রাজ্য সফর ছিল পশ্চিমবঙ্গ (২৭ ও ২৮ জানুয়ারি, দুর্গাপুর ও রানিগঞ্জ)। ৩. সফর শেষ করে ফেরার মাত্র ৬ দিনের মাথায় ফের এই বৈঠক ডাকার অর্থ হলো নির্বাচনী প্রস্তুতির গতি বাড়ানো।
বৈঠকের সম্ভাব্য আলোচ্যসূচি
যদিও দলীয় সূত্রে বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে, তবে সূত্রের খবর—
- সাংসদদের দায়বদ্ধতা: নির্বাচনী প্রচার ও জনসংযোগের ক্ষেত্রে সাংসদদের জন্য নির্দিষ্ট রূপরেখা ও দায়িত্ব নির্ধারিত করে দিতে পারেন নবীন।
- ভোটের ব্লু-প্রিন্ট: দুর্গাপুরের কোর কমিটির বৈঠকে তিনি ১৫ দিন অন্তর রিপোর্ট নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তার আগেই এই বৈঠক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাংলায় দ্রুত ফলাফল দেখতে চাইছে।
বৈঠক শেষে একটি বিশেষ নৈশভোজের আয়োজনও করা হয়েছে, যেখানে ঘরোয়া আলোচনার মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি আরও মজবুত করার চেষ্টা হবে।

