বলিউড সুপারস্টার সলমন খান এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা কুরুচিকর মন্তব্যের জের গড়াল আদালত পর্যন্ত। গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে সলমনকে আক্রমণ করার অভিযোগে ‘দবং’ পরিচালক অভিনব কাশ্যপকে কড়া ভাষায় সতর্ক করল আদালত। পাশাপাশি, সলমনের পরিবারের মানহানির দায়ে তাঁকে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিনের বিবাদ ও অভিযোগ
বিবাদের সূত্রপাত গত বছর থেকে, যখন অভিনব কাশ্যপ সলমন খানের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেছিলেন:
- সলমন খান অত্যন্ত ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ’ এবং তিনি অভিনবের কাজ কেড়ে নিয়েছেন।
- প্রকাশ্যেই সুপারস্টারকে ‘গুন্ডা’ বলে অভিহিত করেন তিনি।
- শুধু সলমনই নন, তাঁর বাবা সেলিম খান এবং দুই ভাই আরবাজ ও সোহেল খানকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি অভিনব।
আইনি পদক্ষেপ ও মানহানির মামলা
অভিনব কাশ্যপের এই লাগাতার আক্রমণ বন্ধ করতে আইনের দ্বারস্থ হন সলমন খান। তিনি অভিনব কাশ্যপ ছাড়াও কোমল মেহেরু, খুশনু হজারে এবং সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। সলমনের আইনজীবী প্রদীপ গান্ধী আদালতের কাছে সলমন ও তাঁর পরিবারের সামাজিক সম্মান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ তুলে ৯ কোটি টাকার মানহানি মামলা লড়েন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়
মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে:
“বাক্স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে আপত্তিকর, হুমকিমূলক বা মানহানিকর ভাষা ব্যবহার করা যায় না।”
আদালত অভিনব কাশ্যপকে নির্দেশ দিয়েছে যেন অবিলম্বে সলমন ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে দেওয়া ওই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার ও ভিডিওগুলি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি, মানহানির ক্ষতিপূরণ বাবদ সলমনকে বিশাল অঙ্কের অর্থ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই রায়ের পর সলমন অনুরাগীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেলেও, অভিনব কাশ্যপ বা তাঁর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।

