ভোটার তালিকায় নথি আপলোডে ‘ইচ্ছাকৃত’ ভুল: কড়া শাস্তির মুখে রাজ্যের একদল নির্বাচনী আধিকারিক

ভোটার তালিকায় নথি আপলোডে ‘ইচ্ছাকৃত’ ভুল: কড়া শাস্তির মুখে রাজ্যের একদল নির্বাচনী আধিকারিক

ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে আপসহীন অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় নথিপত্র আপলোড করার ক্ষেত্রে একাধিক ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (AERO) বিরুদ্ধে গাফিলতি ও জালিয়াতির অভিযোগ জমা পড়েছে। কমিশনের নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষকরাই এই অনিয়ম চিহ্নিত করেছেন।

পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

কমিশন সূত্রে খবর, বিশেষ পর্যবেক্ষকরা রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের নথি খতিয়ে দেখতে গিয়ে বেশ কিছু ‘ইচ্ছাকৃত ভুল’ খুঁজে পেয়েছেন। অনিয়মের ধরনগুলি নিম্নরূপ:

  • নথি বদলে ফেলা: উত্তর কলকাতার একটি বিধানসভা কেন্দ্রের উদাহরণ টেনে জানানো হয়েছে, সেখানে এক ভোটারের যাচাই করা নথি হিসেবে ‘পাসপোর্ট’-এর কথা উল্লেখ করা হলেও, আপলোড করা হয়েছে আধার ও প্যান কার্ডের ছবি। পাসপোর্টের কোনো ছবি সেখানে দেওয়া হয়নি।
  • ভুল ছবি আপলোড: শুনানিতে হাজির হওয়া ভোটারের ছবির পরিবর্তে অন্য ছবি আপলোডের মতো গুরুতর অভিযোগও পর্যবেক্ষকদের নজরে এসেছে।

শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

কমিশন এই অভিযোগগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। আধিকারিকদের এই ভুলগুলো নিছক ‘অসাবধানতা’ নাকি কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে করা ‘ইচ্ছাকৃত জালিয়াতি’, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ইআরও এবং এইআরও-দের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

কমিশনের এক আধিকারিক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “পুরো বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। জালিয়াতি প্রমাণিত হলে কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।”

চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশে বিলম্বের সম্ভাবনা

গত ৪ নভেম্বর থেকে রাজ্যে ভোটার তালিকার তথ্য যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। আগে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে যে হারে তথ্য যাচাইয়ের বাকি রয়েছে এবং নতুন করে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছে, তাতে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ আরও পিছিয়ে যেতে পারে বলে কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির স্বার্থে কমিশন এখন প্রতিটি আবেদন ও আপলোড করা নথি আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষকদের দিয়ে যাচাই করাচ্ছে। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়ার সময়সীমা কিছুটা বাড়লেও নির্ভুল তালিকা তৈরি করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.