ভরসন্ধ্যায় বীরভূমের কীর্ণাহারে এক দুঃসাহসিক ডাকাতির সাক্ষী থাকল স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ কীর্ণাহার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি সোনার দোকানে হানা দেয় ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল। দোকানের মালিক বাপন কর্মকারের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ সোনা-রূপার গয়না নিয়ে চম্পট দেয় তারা।
ক্রেতা সেজে দোকানে প্রবেশ ও অপারেশন
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডাকাত দলের ৪ জন সদস্য প্রথমে আংটি কেনার অছিলায় দোকানে প্রবেশ করে। মালিক আংটি দেখানো শুরু করতেই তারা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাঁর কপালে ঠেকায়। এই সময়ের মধ্যেই বাইরে থাকা দলের বাকি সদস্যরা দোকানে ঢুকে পড়ে আলমারি ও লকার থেকে নগদ টাকা এবং অলঙ্কার হাতিয়ে নেয়।
জনতা ও দুষ্কৃতী সংঘর্ষ
লুঠপাটের সময় দোকানের ভেতর থেকে শোরগোল শুনতে পেয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও সাধারণ মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। বিপদ বুঝে পালানোর সময় জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পরপর কয়েকটি বোমা ফাটায় ডাকাত দলটি। বোমার ধোঁয়ায় চারিদিক ঢেকে গেলে সেই সুযোগে তারা এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। আতঙ্কে দোকানের মালিক বাপন কর্মকার বর্তমানে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।
তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি
কীর্ণাহার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক তপন কুমার দে এই ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, জনবহুল এলাকায় এভাবে বোমা ফাটিয়ে ডাকাতির ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি। তবে পালানোর সময় তড়িঘড়ি করতে গিয়ে ডাকাত দল নিম্নলিখিত কিছু জিনিস ফেলে রেখে গিয়েছে:
- একটি চার চাকার গাড়ি
- একটি মোটর বাইক
- একটি পিস্তল
পুলিশ ইতিমধ্যেই এই সূত্রগুলি হাতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। কীর্ণাহার থানার পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ফেলে যাওয়া গাড়ি ও বাইকের নম্বর যাচাই করে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে এলাকায় বেশ কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তির আনাগোনা ছিল বলেও ব্যবসায়ীরা পুলিশকে জানিয়েছেন।

