ছোট ফরম্যাটে অভিষেকরাই শর্মা, রিঙ্কুরাই সিংহ! মিচেলদের ৪৮ রানে হারিয়ে জয়ে ফিরল ভারত, চিন্তা থাকল শুধু সূর্যকে নিয়ে

নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনটি নজির গড়ল ভারতীয় দল। বুধবার নাগপুরে প্রথমে ব্যাট করে ২৩৮ রান করেন সূর্যকুমার যাদবেরা। কিউয়িদের বিরুদ্ধে ২০ ওভারের ক্রিকেটে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ রান। ভারতের ইনিংসে হল ১৪টি ছক্কা। এটাও নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের সর্বোচ্চ। এই নিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪৪ বার ২০০ বা তার বেশি রান করল ভারত। এমন কৃতিত্ব আর কোনও দলের নেই। গত বিশ্বকাপের পর ১১ বার ২০০ রানের বেশি করল ভারত। নজির গড়ার ম্যাচে ৪৮ রানে জয় পেল ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৩৮ রান করেন সূর্যকুমারেরা। জবাবে নিউ জ়িল্যান্ডের ইনিংস শেষ হল ৭ উইকেটে ১৯০ রানে।

টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন নিউ জ়িল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে আগ্রাসী মেজাজে শুরু করেন অভিষেক শর্মা এবং সঞ্জু স্যামসন। সঞ্জু অবশ্য রান পেলেন না। ১০ রান করে আউট হলে গেলেন। দু’বছরের বেশি সময় পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামা ঈশান কিশনও (৮) ব্যর্থ। ২৭ রানে ২ উইকেট হারিয়ে একটু চাপে পড়ে যায় ভারত। তবে ২২ গজের অন্য প্রান্তে লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন অভিষেক। তাঁর সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিলেন অধিনায়ক সূর্যকুমার। ৪টি চার এবং ১টি ছয়ের সাহায্যে সূর্যের ২২ বলে ৩২ রানের ইনিংসে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া গেল। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে কোচ গৌতম গম্ভীরকে স্বস্তি দিতে পারে। অভিষেক বুঝিয়ে দিলেন, তাঁকে নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। ৩৫ বলে ৮৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেললেন। তাঁর ব্যাট থেকে এল ৫টি চার এবং ৮টি ছক্কা। ভারতের ইনিংসের ভিত গড়ে দিল তাঁর ব্যাট। চেনা মেজাজে নিউ জ়িল্যান্ডের বোলারদের বল মাঠের বাইরে পাঠালেন। অনায়াস ব্যাটিং করলেন। দেখিয়ে দিলেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কেন তিনি বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটার।

অভিষেকের গড়ে দেওয়া ভিতের উপর দাঁড়িয়ে দলের রান ২৩৮-এ পৌঁছে দিলেন রিঙ্কু সিংহ। গম্ভীর তাঁকে ব্যাট করতে পাঠান সাত নম্বরে। ফিনিশারের ভূমিকায় আবার সফল রিঙ্কু। ২০ বলে ৪৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেন। মারলেন ৪টি চার এবং ৩টি ছয়। তাঁর জন্যই ভারতের রান প্রতিপক্ষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ়ের দলে জায়গা পাননি তিনি। ভারতীয় দলে ফিরেই নিজেকে প্রমাণ করে দিলেন কেকেআরের ব্যাটার। তাঁর আগে ১৬ বলে ২৫ রান করেন হার্দিক পাণ্ড্য। ৩টি চার এবং ১টি ছয় মারেন হার্দিক। ব্যর্থ শিবম দুবে (৯)। শেষ পর্যন্ত রিঙ্কুর সঙ্গে ২২ গজে ছিলেন অর্শদীপ সিংহ (৬)।

নিউ জ়িল্যান্ডের কোনও বোলারই তেমন কিছু করতে পারেননি। ভারতীয় ব্যাটারদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। সফলতম জ্যাকব ডাফি ২৭ রানে ২ উইকেট নিলেন। ৫৪ রানে ২ উইকেট কাইল জেমিসনের। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক, ইশ সোধি এবং স্যান্টনার।

জয়ের লক্ষ্যে ২৩৯ রান তাড়া করতে নেমে ১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। ওপেনার ডেভন কনওয়েকে (০) আউট করেন অর্শদীপ। রাচিন রবীন্দ্রকে (১) ফেরান হার্দিক। দলকে ভরসা দিতে পারেননি আরেক ওপেনার টিম রবিনসনও (১৫ বলে ২১)। তাঁকে আউট করেন বরুণ চক্রবর্তী। নিউ জ়িল্যান্ডের হয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন গ্লেন ফিলিপ্স। বরুণের বিরুদ্ধেও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করলেন। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন পাঁচ নম্বরে নামা মার্ক চাপম্যান। ফিলিপ্সকে আউট করে তাঁদের ৭৯ রানের জুটি ভাঙেন অক্ষর পটেল। ফিলিপ্স করেন ৪০ বলে ৭৮। মারেন ৪টি চার এবং ৬টি ছক্কা। ফিলিপ্স যতক্ষণ ২২ গজে ছিলেন, ততক্ষণ চাপে ছিলেন ভারতীয় বোলারেরা। অক্ষর তাঁকে আউট করে ভারতীয় শিবিরে স্বস্তি ফেরান। তার পর নিউ জ়িল্যান্ডের ওভার প্রতি রান তোলার লক্ষ্যও ক্রমশ বাড়তে থাকে। নিউ জ়িল্যান্ডের চাপ আরও বাড়ে বরুণ পর পরই চাপম্যানকে আউট করে দেওয়ায়। ২৪ বলে ৪টি চার এবং ২টি ছয়ের সাহায্যে ৩৯ রান করেন তিনি। ড্যারেল মিচেল বা স্যান্টনারেরা আর চাপ সামাল দিতে পারেননি। ১৮ বলে ২৮ রান করলেন মিচেল। শেষ পর্যন্ত ২২ গজে ছিলেন স্যান্টনার (২০) এবং জেমিসন (১)।

ভারতীয় বোলারদের মধ্যে বরুণ ৩৭ রানে ২ উইকেট নেন। ২৮ রানে ২ উইকেট নিয়ে ভারতের সফলতম বোলার শিবম। ২০তম ওভারে বেশ ভাল বল করলেন। তাঁর ২টি উইকেটই নিউ জ়িল্যান্ডের ইনিংসের শেষ ওভারে। অক্ষরের ১ উইকেট ৪২ রানে। নিজের চতুর্থ ওভারে ফিল্ডিং করতে গিয়ে আঙুলে চোট পান। মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। তাঁর ওভার শেষ করেন অভিষেক। বিশ্বকাপের আগে অক্ষরের চোট নতুন উদ্বেগ তৈরি করল ভারতীয় শিবিরে। নতুন বলের পাশাপাশি পুরনো বল হাতেও ভাল পারফর্ম করলেন অর্শদীপ। ৩১ রান দিয়ে নিলেন ১ উইকেট। ২০ রানে ১ উইকেট হার্দিকের। জসপ্রীত বুমরাহের কাছ থেকে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স পাওয়া গেল না এ দিন। ৩ ওভারে ২৯ রান দিলেও উইকেট পেলেন না। রিঙ্কু, ঈশানদের সহজ ক্যাচ ফেলাও বিশ্বকাপের আগে উদ্বেগ বাড়াতে পারে গম্ভীরের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.