হাতেখড়ি দেওয়ার স্লেটে এখন শৈল্পিক কারিকুরি, খুদের জন্য তা বাড়িতেই কী ভাবে বানাবেন?

স্মার্ট হয়েছে পড়াশোনার ধরন। খুদের হাতেও স্মার্টফোন। টলমল পায়ে চলতে থাকা শিশুও দিব্যি রিল দেখে। হাতের ছোঁয়ায় বদলে ফেলতে পারে একটার পর একটা স্ক্রিন। তবে স্মার্টফোনের জগতেও যা বদলায়নি, তা হল সরস্বতী পুজোয় স্লেট চকে, হাতেখড়ি দিয়ে পড়াশোনার আনুষ্ঠানিক সূচনা।

তবে যুগটা যে স্মার্টফোনের। খুদের এমন দিনের সাজ, হাতেখড়ির মুহূর্ত তো ক্যামেরাবন্দি করতেই হবে। তাই শুধু ছোটদের সাজ নিয়ে নয়, বদল এসেছে হাতেখড়ির স্লেটেও। তাতেই লেগেছে শৈল্পিক ছোঁয়া। তেমন স্লেট অনলাইনে অর্ডার দিলেই মেলে, সন্তানের নাম দিয়ে ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী তা তৈরিও করে দেন অনেকে।

তবে যদি এমন স্লেট কেনা না হয়ে থাকে, বাড়িতে বানিয়েই ফেলতে পারেন নিজেই, একেবারেই নিজের মতো করে।

ফ্রিল দেওয়া স্লেট

লাল ফিতে  এবং লেস দিয়ে সাজিয়ে তুলুন স্লেটটি।

স্লেটের কাঠের অংশটি পছন্দসই রং করে নিন। বাজারচলতি অ্যাক্রেলিক রং দিয়েই কাজটি সারতে পারেন। এ বার পছন্দের কোনও কাপড় কেটে নিন পাড়ের মতো করে। সেটিকে কুঁচি করে আঠা দিয়ে আটকে নিন স্লেটের কাঠের ফ্রেমটির নীচের অংশে। লাল, হলুদ, নীল এমন উজ্জ্বল রঙের ফিতে বা সিল্কের কাপড় দিয়ে স্লেটের চারপাশে ফ্রিল দিন। সাদা লেস বসিয়ে নিন উপর দিয়ে। স্লেটে সাদা রং দিয়ে সন্তানের বা যার হাতেখড়ি তার নামটি সুন্দর করে লিখে দিন। স্লেটের কাঠের অংশেও তা লেখা যায়।

নকশা-কলকা

লেস আর নকশার মিলমিশেও সেজে উঠতে পারে স্লেট।

কাপড় দিয়ে ফ্রিল দিতে না পারলে স্লেটের কাঠের অংশে রেডিমেড লেস বসিয়ে নিন। না হলে আঠা লাগিয়ে লালচে গামছা কেটেও স্লেটের কাঠের অংশটি ঢেকে দিতে পারেন। নকশা বা আঁকিবুকির শখ থাকলে স্লেটের কালো অংশে ধার বরাবর সাদা রং দিয়ে আলপনা বা কল্কা এঁকে দিতে পারেন। কিংবা ‘হাতেখড়ি’ শব্দটিও কায়দা করে স্লেটের উপর তুলির টানে লিখে দিতে পারেন। গামছা দিয়ে ঢেকে দেওয়া অংশে রং-তুলি দিয়ে অ-আ-ক-খ লিখে দিন ছোট ছোট করে। কিংবা কড়ি দিয়েও সাজাতে পারেন অংশটি।

আঁকিবুকি

মনের মতো করে আঁকিবুকি করতে পারেন স্লেটে।

আঁকিবুকির শখ থাকলে স্লেটের কাঠের অংশটি রঙিন করে নিন। এমন একটি বেস রং ব্যবহার করুন, যার উপর অন্য রং ফুটবে। স্লেটে কাঠের অংশ বরাবর বীণা, হাঁস— সরস্বতী পুজোর অনুষঙ্গ ফুটিয়ে তুলতে পারেন। লতাপাতা দিয়ে মনের মতো নকশাও করতে পারেন এতে। লিখে দিতে পারেন সন্তানের নামও। স্বরবর্ণ বা ব্যাঞ্জনবর্ণগুলিও রঙ দিয়ে স্লেটের কাঠের অংশে লিখলে স্লেট সুন্দর দেখাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.