Accident in Lift: লিফটের ওঠানামায় শ্যাফটেই পিষে গেলেন বৃদ্ধ! শেষে ১০ দিন পর… বীভত্‍স কাণ্ড..

 বীভত্‍স কাণ্ড। অনবরত চলছে লিফট।  অথচ শ্যাফট বা গহ্বরে একজন পড়ে রয়েছেন, তা কেউ টেরই পেল না! শেষে ১০ দিন উদ্ধার হল পচাগলা।  ঘটনাটি ঘটেছে ভোপালের মিশ্রোদ এলাকার এক অভিজাত আবাসনে।

পুলিস সূত্রে খবর, মৃতের নাম  প্রীতম গিরি গোস্বামী। পেশায় মুদির দোকান। ছেলে মনোজর সঙ্গে ওই আবাসনের একটি ফ্ল্য়াটে থাকতেন বছর সাতাত্তরের ওই বৃদ্ধ। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছে, ঘড়িতে তখন প্রায় তিনটে। গত ৬ জানুয়ারি দুপুরে একটু আসছি বসে বাড়ি থেকে বেরোন প্রীতম, কিন্তু ফিরে আসেননি।  

কোখায় গেলেন? পরেরদিন অর্থাত্‍ ৭ জানুয়ারি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন পরিবারের লোকেরা। আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিস। তাতেও প্রীতমকে আবাসনে ভিতরে ঢুকতে দেখা যায় বটে। কিন্তু তারপর কার্যত উধাও হয়ে যান তিনি। কেউ ভাবতেই পারেনি যে, তিন তলায় নিজের ফ্ল্য়াটের বাইরেই লিফটের শ্যাফট বা গহ্বরে পড়ে গিয়েছে তিনি। এমনকী, শ্যাফটে দেহ আটকে থাকা অবস্থায়ও নাকি ৮-১০ দিন লিফট স্বাভাবিকভাবে চলেছে!

এদিকে ১৬ জানুয়ারি হঠাত্‍ লিফট বন্ধ হয়ে যায়। যথারীতি টেকনিশিয়ানকে ডাকেন আবাসনের বাসিন্দারা। লিফট ফের চালুও হয়ে যায়। বাসিন্দাদের দাবি, নিচ থেকে লিফট উপরে ওঠার সময় দুর্গন্ধে ভরে যায় চারপাশ। একজন বাসিন্দা জানান, ‘দুর্গন্ধের কারণে আমরা যখন শ্যাফ্টটি পরীক্ষা করি, তখন  একটি পচাগলা দেহ পাওয়া যায়’। পরে পোশাক এবং চটি দেখে পরিবারের সদস্যরা দেহটি শনাক্ত করেন।

আবাসন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের পরিবারের লোকেরা। অভিযোগ, লিফট না আসা সত্ত্বেও দরজা খুলে যেত। প্রায় মাস তিনেক সমস্যা চলে। কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানালেও কোনও ব্য়বস্থা নেওয়া হয়নি। নিহতের ছেলে মনোজ গিরি জানান, তিন তলার সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো বছরের পর বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। তাঁর আক্ষেপ, ‘বাবা নিখোঁজ হওয়ার সাথে সাথেই যদি পুলিm লিফটটি পরীক্ষা করত, তবে বাবার দেহ এভাবে পচে যেত না’।

বছর তিনেক আগে লিফটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিল কলকাতায়ও।  তার ছিঁড়ে পড়ে গুরুতর জখম হন এক চিকিত্‍সক দম্পতি।  কসবার রাজডাঙা এলাকায় একটি নার্সিংহোমে চালাতেন তাঁরা। ঘটনার দিন লিফটে করে চারতলা থেকে নামছিলেন স্বামী-স্ত্রী। আচমকাই লিফটের তার ছিঁড়ে পড়ে!  শেক্সপিয়র সরণির একটি বহুতলে যিনি লিফটম্যান ছিলেন, তাঁর উপরেই ভেঙে পড়েছিল লিফট! দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ওই লিফটম্যানের। লিফট নিচে থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.