স্বামীজি অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন,যে স্বপ্নের সাধনা করেছিলেন ঋষি অরবিন্দ।ডাইনে-বামে-পশ্চাতে ঢেউ আর ঢেউ,অগণিত অনন্য;সামনে মহান ভারতবর্ষ;তারই দু’প্রান্তে মহাসাগরের বুকে মিশে যেতে চায় সাগর আর উপসাগর — অনাদি কাল থেকে তাদের অভিসার যাত্রা।
১৮৯২ সালের ২৫ শে ডিসেম্বর;আকাশের এক তারা এসেছেন মত্যসাগরের ত্রিকোণ প্রেমের জলধারায় নীলকর দিয়ে।সুনীল জলধি থেকে সন্তানসম ভারতবর্ষের আবির্ভাব;মহাকালের সেই মহান অধ্যায় দেখতে এসেছেন সপ্তর্ষিমণ্ডলের এক আশ্চর্য নক্ষত্র;তার অতীত আর ভবিষ্যৎ মেলাবেন সমাধিতে বসে। পাশেই সমুদ্র-তনয়া কন্যাকুমারী। বড়দিন-ই বটে,তার প্রাক্কালে পায়ে হেঁটে কন্যাকুমারী পৌঁছেছেন স্বামী বিবেকানন্দ,তারপর মূল ভূখণ্ড থেকে সাগর-সঙ্গমে ৫০০ মিটার সাঁতরে ভারতীয় পাহাড়ের শেষ বিন্দুতে পৌঁছলেন তিনি;দেখলেন অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন,তারপর অতুল্য কিন্তু অভুক্ত ভারতের জন্য গ্রহণ করলেন এক অধ্যাত্মিক সংকল্প।ধ্যানের শঙ্খনাদে একাদিক্রমে তিনদিন কাটলো — ২৫,২৬,২৭ শে ডিসেম্বর।সেই ঘটনার ১২৫তম বর্ষ উৎযাপন শেষ হয়েছে ২০১৭ সালের ২৭ শে ডিসেম্বর।যে শিলাতে বসে স্বামীজি ধ্যানস্থ হয়েছিলেন ১৯৭০ সালে বিবেকানন্দ মেমোরিয়াল কমিটি সেখানে একটি স্মারকস্থল নির্মাণ করেছিল।
এই নির্মাণ সহজ কাজ ছিল না।ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের ধারাবাহিকতা এই নির্মাণ কাজে ছিল বড় বাঁধা। ভারতীয় পুরাণ এবং স্বামীজির স্মৃতি মুছে দিয়ে
সেন্ট জেভিয়ার্সের নামে একটি গীর্জা তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন যারা,তাদের বৌদ্ধিকভাবে পরাস্ত করতে প্রবল বেগ পেতে হয়েছিল এই সংগঠনকে।বিবেকানন্দ শিলাস্মারক ও বিবেকানন্দ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা কর্মযোগী একনাথ রামকৃষ্ণ রাণাডে-র জন্য এ কাজটি সুসম্পন্ন হয়।বিবেকানন্দ স্মারক রচনা করে একনাথজী ভারতবাসীর অন্তরে স্থাপন করে দিয়েছিলেন স্বামীজির জীবন্ত স্মারক।
স্মারকস্থল নির্মাণের ২৫ বছর পূর্তি হবার পর ভারতীয় ডাকবিভাগ একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে ১৯৯৬ সালের ২৬শে ডিসেম্বর।বহুবর্ণে প্রকাশিত ৫ টাকা মূল্যের এই ডাকটিকিটে বিবেকানন্দ শিলার ছবি রয়েছে।এই কাজের ভগীরথ
শ্রী একনাথ রামকৃষ্ণ রাণাডে ১৯১৪ সালের ১৯ শে নভেম্বর মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলার টিমতলায় জন্মগ্রহণ করেন।
ড. কল্যাণ চক্রবর্তী।

